কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার আহ্বান

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২১ মে ২০২৬, ০৭:০৫ বিকাল
  • ৮৯৯৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার আহ্বান

কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, চামড়ার গুণগত মান রক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রশিক্ষিত জনবলের বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যরা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনের কাজে যুক্ত থাকেন। এ কারণে দক্ষ জনবল তৈরি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অপরিকল্পিতভাবে চামড়া ছাড়ালে এর গুণগত মান নষ্ট হয় এবং বাজারমূল্য কমে যায়।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাদরাসার শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কোরবানির সময় দক্ষ জনবল তৈরি করা যেতে পারে। এতে একদিকে চামড়ার মান উন্নত হবে, অন্যদিকে তরুণদের কর্মদক্ষতা ও স্বল্পমেয়াদি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকার প্রয়োজনে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর–এর কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় তাদের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, কোরবানির চামড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাদরাসায় দান করা হয়। তাই চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহসহ সরকারি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। চর্বি পরিষ্কার, যথাযথ লবণ প্রয়োগ ও সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে চামড়ার মান বাড়বে এবং রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থে অবৈধভাবে পাচার হয়ে আসা পশু ক্রয় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে দেশে আসা পশু কোরবানির জন্য কেনা কতটা সমীচীন—সে বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ ও ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad