ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে তেহরান’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সমঝোতা ঘিরে নতুন বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ডেভিড হার্স্ট। তার মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ইরান শুধু সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
হার্স্ট তার বিশ্লেষণে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কৌশল শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি। বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কয়েকবার অগ্রগতি এলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়। ইরানবিষয়ক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত ছিল লেবানন পর্যন্ত সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এবং ইরানের কিছু জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করা।
ডেভিড হার্স্টের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে গত দুই দশকে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনের পর এবারও যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূ-কৌশলগত সুবিধা রয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যে আঞ্চলিক জোট গঠনের চেষ্টা করেছে, তা এখন নতুন বাস্তবতার মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ওমানকে নিয়ে নতুন ধরনের আঞ্চলিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হার্স্ট মনে করেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার ভাষায়, ইরানের প্রতিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা হয়ে উঠেছে—বহিরাগত চাপের মুখেও আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম।
তবে বিশ্লেষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার পরও গাজা ও লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের সামরিক অভিযান আরও তীব্র হতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।
ডেভিড হার্স্ট বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম middleeasteye.net–এর সম্পাদক। তার এই বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক