চীনের অর্থায়নে এলজিইডির ৬ মেগা প্রকল্প: গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে সেতু ও পানি অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা
দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের অর্থায়নে ছয়টি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এবং চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (CSCEC) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং নদীকেন্দ্রিক পরিবেশ ও নৌপথ রক্ষায় উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর সেতু ও অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, অপরিকল্পিত বাঁধ, নিম্ন উচ্চতার সেতু, নদী ভরাট, বালু উত্তোলন ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত চাপের কারণে দেশের অনেক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নৌচলাচল, কৃষি ও পরিবেশব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ স্প্যান ও নদীবান্ধব আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এলজিইডি জানিয়েছে, প্রধান নদীগুলোর ওপর প্রচলিত সেতুর পরিবর্তে উন্নত প্রযুক্তির সেতু নির্মাণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, “বাংলাদেশের গ্রামীণ সড়কে উচ্চ প্রযুক্তির সেতু নির্মাণ” শীর্ষক একটি প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা বর্তমানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিদেশি অর্থায়নে সুন্দরগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু সফলভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এলজিইডির বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন দেশের প্রথম কেবল-স্টেইড সেতুর নকশা ও পরিকল্পনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছেন বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
চীনের অর্থায়নে প্রস্তাবিত ছয়টি প্রকল্প হলো—
১. বাংলাদেশের গ্রামীণ সড়কে উচ্চ প্রযুক্তির সেতু নির্মাণ প্রকল্প
২. গ্রামীণ সড়ক সংযোগকারী সেতু নির্মাণ প্রকল্প
৩. গ্রামীণ-শহর সংযোগকারী সেতু নির্মাণ প্রকল্প
৪. গ্রামীণ সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি প্রকল্প
৫. ক্ষুদ্র পানি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প
৬. বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি উন্নয়ন সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প
প্রকল্পগুলোর আওতায় ২০০ থেকে ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬০ থেকে ৭০টি এবং ৩০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের আরও ৫০ থেকে ৬০টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো সেতুর স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক গতি সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে শহর-গ্রামের সংযোগ বৃদ্ধি, নৌপথের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় দ্রুত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স