‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী

  • মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২৫ মে ২০২৬, ১১:৫৮ দুপুর
  • ৮২১১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী

ঢাকা, ২৫ মে : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদ্‌যাপনে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ইংরেজি ১৮৯৯ সালের ২৫ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিদ্রোহী এই কবি।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী আয়োজনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ চলবে ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন পরাধীন জাতির মুক্তির আলোকবর্তিকা। শোষণ, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার সাহিত্য ও সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক।

তিনি আরও বলেন, নজরুলের পুরো জীবন ছিল এক অনন্য বিদ্রোহের নাম। মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা ও নারীমুক্তির পক্ষে তার রচনা বাংলা সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। উপমহাদেশে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তোলার ক্ষেত্রেও নজরুল ছিলেন অগ্রগামী কণ্ঠস্বর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি শুধু বাংলাদেশের জাতীয় কবিই নন, বিশ্বমানবতারও কবি।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সকাল সোয়া ৬টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। পরে কবির কবর প্রাঙ্গণে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, সংগীতজ্ঞ ও দার্শনিক। প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন তিনি, যা ‘নজরুলসংগীত’ নামে সমধিক পরিচিত।

‘দুখু মিয়া’ নামে পরিচিত নজরুল অল্প বয়সেই পিতৃহারা হন। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মুয়াজ্জিনের কাজ করেছেন, লেটো দলে গান লিখেছেন এবং ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। পরে কলকাতায় এসে সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আত্মনিয়োগ করেন।

১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। একই বছরে ব্রিটিশবিরোধী লেখালেখির অভিযোগে তার ‘যুগবাণী’ গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯২৩ সালে আদালতে দেওয়া তার ঐতিহাসিক বক্তব্য ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।

জীবনের শেষদিকে তিনি দুরারোগ্য পিকস্ ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ-এর পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad