শান্তি উদ্যোগে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা: তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরান সফর করছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় তিনি ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে সেখানে যাচ্ছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে গত তিন দিন ধরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরানে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। ওই ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যেই সেনাপ্রধানের এই সফরকে ঘিরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাতে বলা হচ্ছে, কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করছেন। একাংশের মতে, বেসামরিক পর্যায়ের আলোচনায় চূড়ান্ত অগ্রগতি না হওয়ায় উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আবার অন্য বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করায় চূড়ান্ত পর্যায়ের সমঝোতা ও নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণের জন্য সেনাপ্রধানের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক সক্রিয়তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এর আগেও তিনি তেহরান সফরে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে পাকিস্তানের ভূমিকা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষণা আসেনি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসিম মুনিরের বর্তমান তেহরান সফর চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে নতুন গতিশীলতা দিতে পারে, তবে এর ফলাফল নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক