জলসীমার আশেপাশে অর্ধশতাধিক চীনা যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ রাত
  • ৩০৭৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জাপানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাইওয়ান হয়ে ফিলিপাইনের কাছাকাছি বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় চীনের নৌবাহিনী ও সরকারি সংস্থার ৫৩টি জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তাইওয়ান। এসব জাহাজের মধ্যে ৩৪টি চীনা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। বহরে রয়েছে বিমানবাহী রণতরি ‘লিয়াওনিং’। এ তৎপরতাকে তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে তাইপে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ অক্টোবর তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এতে ৫৩টি চীনা জাহাজের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। জোসেফ উ জানান, চীনা জাহাজগুলোর গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাইওয়ান। একই সময়ে এ অঞ্চলে এমন সামরিক তৎপরতা তিন দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

মানচিত্র অনুযায়ী, লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজাহাজের বহর ফিলিপাইনের পূর্বদিকে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া তাইওয়ানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি কয়েকটি চীনা জাহাজ এবং জাপানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে তিনটি জাহাজ শনাক্ত করা হয়। এর আগে গত মে মাসেও একই ধরনের মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন জোসেফ উ।

মহড়াকে নিয়মিত কার্যক্রম বলছে বেইজিং

চীনের পক্ষ থেকে এসব তৎপরতাকে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং বলেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিংয়ের মহড়া স্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম। দূরবর্তী সমুদ্র এলাকায় দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করাই এর উদ্দেশ্য। কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে এ মহড়া চালানো হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার তিনটি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও একটি কোস্টগার্ড জাহাজের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়েছে। জাহাজগুলো জাপানের কিউশু দ্বীপের কাছে ওসুমি প্রণালি অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। তাইওয়ানের প্রতি জাপানের সমর্থনে অসন্তুষ্ট বেইজিং। অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন এলাকা নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের বিরোধও দীর্ঘদিনের।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বৃহস্পতিবার তাইপেতে পার্লামেন্টের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন সামরিক শক্তি প্রদর্শন তারা দেখতে চান না।

তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফিলিপাইন সাগরে প্রশিক্ষণ শেষে লিয়াওনিংয়ের নেতৃত্বাধীন বহর উত্তর দিকে জাপানের দিকে অগ্রসর হয় কি না, তা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, বহরটি উত্তরমুখী হলে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।

তাইওয়ান ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা কখনোই নাকচ করেনি চীন। তবে বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান, তারা দ্বীপটির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ চায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৭ অক্টোবর হাওয়াইয়ে আয়োজিত এক ফোরামে এ কথা জানান প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার রোনাল্ড ক্লার্ক।

সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তাইওয়ানও নিজেদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু। তাঁর ভাষ্য, তাইওয়ান দখলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প কখনোই পুরোপুরি বাদ দেয়নি চীন।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটির স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় না। অন্যদিকে তাইওয়ান সরকারের অবস্থান, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সেখানকার জনগণের। তাইপের দাবি, তাইওয়ানের ওপর বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্ব নেই।

তথ্যসূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন; তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব জোসেফ উ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু, চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য; ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর প্রতিবেদন। মূল প্রতিবেদন: https://www.reuters.com/world/china/taiwan-flags-obvious-threat-50-chinese-vessels-wide-sweep-waters-2026-10-29/




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad