মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংক নেটওয়ার্কে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। বুধবার ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানান, স্টারলিংক সংযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোনের গতিসীমা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাস্ককে ধন্যবাদ দেন তিনি এবং ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
সিদ্ধান্তের ক্ষমতা মার্কিন সরকারেরসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, স্টারলিংকের সামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি সেবা স্টারশিল্ডের মালিক ও নিয়ন্ত্রক মার্কিন সরকার। এ সেবার গতি ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে।
মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিংক মূলত বেসামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য তৈরি। আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে এ বাণিজ্যিক সেবা ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে স্টারলিংকের গতি সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
স্টারলিংক সাধারণ গ্রাহকদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেয়। অন্যদিকে, স্টারশিল্ড মার্কিন সরকারের সামরিক ও সরকারি ব্যবহারের জন্য তৈরি পৃথক সেবা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ বুধবার টেলিগ্রামে লেখেন, ড্রোনের গতি সীমিত করার ঘটনা কাকতালীয় নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে নিজের দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
সংযোগ পুরোপুরি ফেরানোর আহ্বান জেলেনস্কিরইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমকে বলেন, স্টারলিংক সংযোগ সীমিত করার ঘটনা কোনো ভুল বা কারিগরি সমস্যার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি দ্রুত পুরোপুরি সংযোগ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।
এদিকে, ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ বাড়ছে। জেলেনস্কির দাবি, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার এ দাবি অস্বীকার করেন ট্রাম্প।
বুধবার লন্ডন সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমকর্মী পিয়ার্স মরগানকে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির চুক্তি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি হয়েছিল। তবে বিষয়টির আরও জটিল দিক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়ার বড় হামলায় বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষস্টারলিংক সংযোগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভে কয়েকজন নিহত হন। সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। জেলেনস্কি এ হামলাকে রাশিয়ার অন্যতম বড় হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন অনেক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হামলার কারণে দেশজুড়ে অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোন আঘাত হানার আগে তাঁরা কোনো সতর্কবার্তা পাননি।
যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাসযুক্তরাজ্য সফরে জেলেনস্কি দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, ইউক্রেনে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের গতি বাড়ানো হবে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্যবহার করা হয়।
বৈঠকে বার্নহাম জেলেনস্কিকে বলেন, ইউক্রেনের পাশে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
স্টারলিংকের সংযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন সরকারের সরাসরি নির্দেশ ছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় বেসরকারি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ভূমিকা এবং এ ধরনের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, ১৫ অক্টোবর ২০২৬; ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বক্তব্য, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক