উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরের এ ঘাটে বিকেল হলেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। কেউ পরিবার নিয়ে আসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। ঘাটসংলগ্ন চায়ের দোকান, খাবারের স্টল ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে।
নদীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরাঘাটের খোলা পরিবেশ, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশি নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা স্বস্তি খোঁজা মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ছুটির দিনে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন।
রায়পুর থেকে ঘুরতে আসা ওসমান গনি বলেন, মেঘনার পাড়ের পরিবেশ বেশ সুন্দর। নদীর বাতাস ও চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ভালো লাগে। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয়। আগে বসার জায়গা ছিল না। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ গড়ে তোলায় এখন পরিবেশ আরও ভালো লাগছে।
আরেক দর্শনার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, বিকেলে নদীর পাড়ে এলে মন ভালো হয়ে যায়। নৌকার চলাচল ও বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখতে ভালো লাগে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জায়গাটি সাজানো হয়েছে। রায়পুরের বাইরের মানুষও এখানে ঘুরতে আসেন।
স্থানীয় তরুণ মোশারফ হোসেন বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি ভালো। তবে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান, পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীরা আরও সুবিধা পাবেন।
ঘাট ঘিরে বাড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্ভাবনাদর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান, চায়ের স্টল ও ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
ঘাটসংলগ্ন খাবারের দোকানের মালিক আজিম বলেন, মানুষ ঘুরতে এলে চা-নাশতা ও খাবারের প্রয়োজন হয়। দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া বাড়ায় ব্যবসার সুযোগও তৈরি হয়েছে। পরিবেশ আরও সুন্দর হলে মানুষের আগমন বাড়বে এবং ব্যবসাও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আক্কাস পাটোয়ারী বলেন, ঘাট ঘিরে ছোট ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যবসার পরিবেশ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতা, দোকানের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা এবং যানবাহন চলাচলের সুবিধা প্রয়োজন। পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
ব্যবসায়ীদের মতে, মানসম্মত খাবার, নির্ধারিত মূল্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ভালো সেবা নিশ্চিত করা গেলে দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও উপকৃত হবেন।
পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ উপজেলা প্রশাসনেরঘাটের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে রায়পুর উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মেঘনার পাড়ে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ নামে একটি স্থানের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।
তবে দীর্ঘমেয়াদে ঘাটের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক ফেলা নদীপাড়ের পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিকল্পিত উন্নয়নে পর্যটনকেন্দ্র হওয়ার সম্ভাবনাস্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাজু মোল্লার ঘাট লক্ষ্মীপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য নিরাপদ চলাচল, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, মানসম্মত বসার স্থান, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান এবং নদীপাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া দরকার।
মেঘনাকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশ ঘটলে স্থানীয় খাবারের দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়ের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একসময় মাছ কেনাবেচার ব্যস্ততায় মুখর থাকা সাজু মোল্লার ঘাট এখন নতুন পরিচয়ের পথে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ এবং স্থানীয় মানুষের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা গেলে স্থানটি রায়পুরের পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিতে পারে। এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিচর্যা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা।
তথ্যসূত্র: সাজু মোল্লার ঘাটে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক