সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দৈনিক যুগান্তর।
সহায়তার দাবি নাকচ ট্রাম্পেরট্রাম্প বলেন, তাঁর সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীরা দাবি করছেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে। তবে এমন সহায়তা দেওয়া হলেও তা খুব সীমিত পর্যায়ে হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি বিশ্বাস করি না, তারা আদৌ এমনটা করছে।” তিনি আরও বলেন, “তাদের হারানোর অনেক কিছু আছে। আর তারা এমন কিছু করলে আমরা তা জানতে পারব, খুব দ্রুতই জানতে পারব।”
এর আগে গত জুলাইয়ে ইরান যুদ্ধে তেহরানকে সহায়তা না করতে চীন ও রাশিয়াকে সতর্ক করার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তাদের জন্য পরিণতি ভালো হবে না।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীন-রাশিয়ার অবস্থানপ্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে চলমান যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—এমন দেশগুলোতে হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে হামলা-পাল্টা হামলায় ইরান ও লেবাননে বহু মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং। চীনের মতে, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের হামলা ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। অন্যদিকে, মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
চীনের সহায়তা নিয়ে আগেও প্রতিবেদনগত মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় ট্রাম্প তাঁকে ইরানকে সহায়তা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চীন এ ধরনের সহায়তা না দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিল।
এদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। চীনের সহায়তায় ইরান তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথও খুঁজে পেয়েছে বলে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা সম্পর্কে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
গত সেপ্টেম্বরে এমন একটি প্রতিবেদনও নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, জুলাইয়ে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের একটি ঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করেছিল ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক