জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনই দায়িত্বে থাকছেন। পুনর্গঠিত কমিটিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে মোট ১৬ জন সদস্য থাকছেন। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়া বাকি ১৪ সদস্যকে বিভিন্ন বিশেষায়িত উপকমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে যারা
পুনর্গঠিত রাজনৈতিক পর্ষদে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হচ্ছেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসুদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হোসেন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।
বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব বণ্টন
দলীয় সূত্র জানায়, পুনর্গঠিত রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান হচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সাংগঠনিক উপকমিটির প্রধানের দায়িত্ব পাচ্ছেন সারজিস আলম এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের (ডায়াস্পোরা) বিষয়ক উপকমিটির প্রধান হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ।
অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির প্রধান হিসেবে আব্দুল্লাহ আল আমিন, মিডিয়া উপকমিটির প্রধান হিসেবে সারোয়ার তুষার, গবেষণাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান হিসেবে সালেহ উদ্দিন সিফাত, নারী বিষয়ক উপকমিটির প্রধান হিসেবে মাহমুদা মিতু এবং জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাইভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়বিষয়ক উপকমিটির প্রধান হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
থাকছে বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো
পুনর্গঠিত কাঠামোয় প্রতিটি উপকমিটির অধীনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৩ সদস্যের সাংগঠনিক উপকমিটিতে ১০ জন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১০ জন বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক থাকবেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজনকে এ উপকমিটির উপপ্রধান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ৩০ থেকে ৩৫টি বিশেষায়িত সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব সেলের নেতৃত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকরা। সহসম্পাদকদেরও এসব সেলের কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও মিডিয়াবিষয়ক উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, দলটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক