ওষুধ খেয়েও জ্বর কমছে না? যেসব কারণ অবহেলা করা বিপজ্জনক

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন সংক্রমণ হতে পারে কারণ; বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ

জ্বর সাধারণত কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয়; বরং শরীরে সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যার বিরুদ্ধে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া। তবে জ্বরের ওষুধ খাওয়ার পরও তাপমাত্রা না কমলে কিংবা জ্বর বারবার ফিরে এলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া ও মূত্রনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর হতে পারে। তাই শুধু জ্বর কমানোর ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী রোগের কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, জ্বরের স্থায়িত্ব, সঙ্গে থাকা উপসর্গ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা চেতনার পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

জ্বর না কমার সম্ভাব্য কারণ

ডেঙ্গু: তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও দুর্বলতা ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ। জ্বর কমানোর ওষুধে সাময়িক স্বস্তি মিললেও এতে রোগের কারণ দূর হয় না। ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ভাইরাসজনিত সংক্রমণ: ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণে কয়েক দিন জ্বর থাকতে পারে। এর সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা কিংবা নাক বন্ধ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়া: টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়াজনিত এবং ম্যালেরিয়া পরজীবীঘটিত রোগ। এসব সংক্রমণে দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার জ্বর হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নির্দিষ্ট চিকিৎসা দরকার।

মূত্রনালির সংক্রমণ: প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, তলপেটে ব্যথা কিংবা কাঁপুনিসহ জ্বর মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়লে গুরুতর অসুস্থতার আশঙ্কা থাকে।

অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়ে। ভাইরাসজনিত জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।

জ্বর হলে বাড়িতে কী করবেন

জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শরীরকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দিতে বিশ্রাম নিন।

পর্যাপ্ত তরল পান: পানি, খাবার স্যালাইন (প্রয়োজন অনুযায়ী), পাতলা স্যুপ ও অন্যান্য উপযুক্ত তরল পান করুন। বমি বা ডায়রিয়া থাকলে পানিশূন্যতার দিকে বিশেষ নজর দিন।

আরামদায়ক পরিবেশ: হালকা পোশাক পরুন এবং অতিরিক্ত কম্বল দিয়ে শরীর ঢেকে রাখবেন না। অস্বস্তি হলে স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে নিতে পারেন।

সহজপাচ্য খাবার: ক্ষুধা অনুযায়ী ভাত, খিচুড়ি, স্যুপসহ পুষ্টিকর খাবার খান।

ওষুধে সতর্কতা: বয়স, ওজন, লিভারের অবস্থা ও অন্যান্য ওষুধ বিবেচনা করে প্যারাসিটামল নিতে হয়। প্যাকেটের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন। একাধিক ওষুধে প্যারাসিটামল আছে কি না, খেয়াল রাখুন।

ডেঙ্গুর সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহনাশক ওষুধ খাবেন না। এসব ওষুধে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

জ্বরের সঙ্গে নিচের যেকোনো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে:

তীব্র পেটব্যথা বা অনবরত বমি।

নাক, মাড়ি বা অন্য স্থান থেকে রক্তপাত কিংবা কালো পায়খানা।

শ্বাসকষ্ট বা তীব্র বুকব্যথা।

অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, অস্বাভাবিক আচরণ বা অচেতন হয়ে পড়া।

পানি পান করতে না পারা, প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া বা পানিশূন্যতার লক্ষণ।

জ্বরের সঙ্গে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি।

জ্বর তিন দিন বা তার বেশি স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা তাপমাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

ডেঙ্গুতে জ্বর কমলেও সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়াকে সব সময় সুস্থতার লক্ষণ মনে করা ঠিক নয়। সাধারণত অসুস্থতার তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে, বিশেষ করে জ্বর কমার পরবর্তী ২৪–৪৮ ঘণ্টায়, গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ সময় তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

জ্বর শরীরের ভেতরে চলমান কোনো সমস্যার সংকেত। তাই শুধু তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা না করে জ্বরের কারণ শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad