জোড়াতালির সংস্কারেও কমছে না ঝুঁকি, বেহাল ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩০ দুপুর
  • ২০৩৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পুঠিয়া-ঝলমলিয়া অংশে খানাখন্দ, বানেশ্বর হাটে যানজট ও ধুলাবালিতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের রাজশাহীর পুঠিয়া অংশে বেহাল দশা বিরাজ করছে। বেলপুকুরিয়া থেকে বানেশ্বর, শিবপুর, বিড়ালদহ, পুঠিয়া সদর ও ঝলমলিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জরুরি মেরামতেও পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। এর সঙ্গে বানেশ্বর হাটের যানজট ও ধুলাবালি দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুঠিয়া সদর ও ঝলমলিয়া বাজারসহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতির এ সড়কে হঠাৎ গর্ত সামনে পড়ায় চালকদের যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য ঝুঁকি বেশি। পাশাপাশি মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনের চলাচল দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি নাটোর থেকে মোটরসাইকেলে রাজশাহী যাওয়ার পথে পুঠিয়া এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়েন সাইফুল ইসলাম নামের এক আরোহী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দ্রুতগতির মহাসড়কে এমন ভাঙাচোরা গর্ত থাকলে দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব। আজ আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছি। মহাসড়কের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কি এসব চোখে পড়ে না?’

জোড়াতালির মেরামতে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের গর্তে খোয়া-পাথর ফেলে সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে পিচ উঠে আবার গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে সড়ক সংস্কারে ব্যয় করা অর্থের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুঠিয়া-ঝলমলিয়া অংশে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং মেরামতকাজের মান কেমন ছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

সওজ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪২৪ কিলোমিটার সড়কের জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এই অর্থের কত অংশ ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া-ঝলমলিয়া অংশে কাজে লেগেছে, তা স্পষ্ট নয়।

বারবার মেরামতের পরও সড়ক টেকসই না হওয়ার বিষয়ে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, জরুরি মেরামতে ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে করা কাজ খুব একটা টেকসই হয় না। তাঁর ভাষায়, এটি ‘ব্যথানাশক ওষুধ (পেইন কিলার)’ খাওয়ার মতো। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের মেরামত করা হয়।

বানেশ্বর হাটে যানজট, বাড়ছে ধুলাদূষণ

মহাসড়কের দুর্ভোগের আরেকটি বড় কারণ বানেশ্বর হাট। ব্যস্ত সড়কের ওপর হাট বসায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খানাখন্দের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি হাটকেন্দ্রিক অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে দীর্ঘ যানজট। যানবাহন চলাচলের সময় উড়তে থাকা ধুলাবালিতে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত টেকসইভাবে সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে বানেশ্বর হাটের কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণ, ধুলাবালি কমানো এবং মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনের চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে টেকসই সংস্কারকাজ কবে শুরু হবে, এখন সেটিই স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad