দেশের জ্বালানি চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণে আগামী জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসোলিন আমদানির চারটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেলগুলো আমদানি করবে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্যাকেজ নং-পি জি-০১-এর আওতায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ০.০০৫ শতাংশ সালফারযুক্ত গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ জ্বালানি আমদানি করা হবে। এ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
এ ছাড়া প্যাকেজ নং-পি জি-০২-এর আওতায় একই ধরনের গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ আমদানির জন্য ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ চালানের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
ফার্নেস অয়েল (১৮০ সিএসটি) আমদানির জন্য প্যাকেজ নং-পি জি-০৩-এর আওতায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড।
অন্যদিকে প্যাকেজ নং-পি জি-০৪-এর আওতায় গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড আমদানির জন্য ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ তেলও সরবরাহ করবে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
সব মিলিয়ে চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে মোট ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির পথ সুগম হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রয়াদেশ পেয়েছে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। আর দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে ভিটল এশিয়া প্রায় ৭ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার সরবরাহাদেশ পেতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়মতো জ্বালানি তেল আমদানির এ উদ্যোগ দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার