সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নৃত্যপরিচালক জুটি জানান, ‘তু মিল জায়ে’ প্রচলিত ধারার কোনো নাচের গান নয়। এতে প্রেমের আবহের পাশাপাশি রয়েছে আবেগ, তীব্রতা ও অ্যাকশনের উপাদান। ফলে গানের মেজাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাচের প্রতিটি ভঙ্গি তৈরি করাই ছিল তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
পীযূষ-শাজিয়া জানান, পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ প্রায় এক বছর আগেই গানটির নৃত্যপরিচালনার দায়িত্ব তাদের দেন। তাদের কাজের মধ্যে নতুনত্ব ও ভিন্নধর্মী ভাবনা দেখে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শাহরুখ খানও তাদের পরিকল্পনা ও নতুন ধারণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।
শাহরুখের সঙ্গে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তারা বলেন, ক্যারিয়ারের এত অল্প সময়ে তার মতো একজন তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া বিশেষ অভিজ্ঞতা। নিজেদের কাজের ধরন অন্যদের তুলনায় কিছুটা আলাদা হওয়ায় এমন বড় সুযোগ পেয়েছেন বলেও মনে করেন তারা।
নৃত্যপরিচালকদের ভাষ্য, গানটির দৃশ্যায়নে শুধু রোমান্টিক আবহ তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য ছিল না। সিনেমায় শাহরুখের চরিত্রের মধ্যে যে তীব্রতা ও হিংস্রতার ছাপ রয়েছে, সেটিও নাচের দৃশ্যে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন তারা। এ কারণে রোমান্টিক মুহূর্তের পাশাপাশি গানটিতে রাখা হয়েছে অ্যাকশনের ঝলক।
গানটির অন্যতম আকর্ষণ ‘হুক স্টেপ’। শাহরুখের নিজস্ব নাচের ধরন ও শারীরিক অভিব্যক্তি বিবেচনায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে। কোরিওগ্রাফারদের মতে, গানটির আবহ ও চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাচ তৈরি করতে বিশেষ পরিকল্পনা করতে হয়েছে।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে পীযূষ-শাজিয়া বলেন, শাহরুখ নিজেই তাদের জানিয়েছিলেন, নাচটি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে না পারা পর্যন্ত যেন তাকে মহড়া থেকে বিরত রাখা না হয়। তার এই নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক আচরণ তাদের মুগ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, পীযূষ-শাজিয়া জুটি এর আগে ‘রুহি’, ‘ভেড়িয়া’ ও ‘লাইগার’ সিনেমার নৃত্যপরিচালনা করেছেন। সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘ফাইটার’ সিনেমার ‘হীর আসমানি’ গানটির কোরিওগ্রাফিও করেছেন তারা। দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে আগে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘তু মিল জায়ে’ই তাদের প্রথম কাজ।
গানটির সুর করেছেন সচিন-জিগর এবং কথা লিখেছেন কুমার। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ-দীপিকার রসায়ন ও নতুন আঙ্গিকের দৃশ্যায়ন ঘিরে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, বিনোদন বিভাগ; ৫ নভেম্বর ২০২৬। কোরিওগ্রাফার পীযূষ-শাজিয়ার সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন।

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স