সালমানকে ক্ষমা চাইতে বিষ্ণোই মন্দিরে যাওয়ার শর্ত, নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন লরেন্সের কাকা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ রাত
  • ১১৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি। রাজস্থানের বিকানেরে অবস্থিত বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মীয় স্থান মুক্তিধাম মুকামে গিয়ে পূজা ও ক্ষমা প্রার্থনা করলেই বিরোধের অবসান হতে পারে বলে জানিয়েছেন গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাকা রমেশ বিষ্ণোই। একই সঙ্গে সেখানে গেলে সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

১৯৯৮ সালে রাজস্থানের কঙ্কানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সঙ্গে অভিনেতার বিরোধের সূত্রপাত। কৃষ্ণসার হরিণকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে সম্প্রদায়টি। তাদের বিশ্বাস, হরিণ হত্যা তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

দীর্ঘদিন ধরে এ বিরোধের জেরে সালমান খানকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং। ২০২৪ সালে মুম্বাইয়ে সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া অভিনেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও সামনে আসে। এসব ঘটনায় সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ক্ষমা চাইলেই মিটতে পারে বিরোধ

সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রমেশ বিষ্ণোই বলেন, তিনি কোনো ধরনের সহিংসতা সমর্থন করেন না। সালমান কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠ কারও ওপর হামলা বা হত্যাকাণ্ডের পক্ষেও তিনি নন। তাঁর মতে, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ নিরসনে সালমানের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

রমেশ বিষ্ণোইয়ের ভাষ্য, সালমান যদি রাজস্থানের বিকানেরে অবস্থিত মুক্তিধাম মুকাম মন্দিরে গিয়ে পূজা দিয়ে সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতেন, তাহলে অনেক আগেই এ বিরোধের অবসান হতে পারত।

তিনি আরও বলেন, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্যায় করলে তাঁর মধ্যে অনুশোচনা থাকতে হবে এবং প্রথা অনুযায়ী প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুকাম মন্দিরে গিয়ে পুরো সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। তবে সেই ক্ষমা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করবেন সম্প্রদায়ের সদস্যরা।

নিরাপত্তার আশ্বাস লরেন্সের কাকার

সালমান খানের বাবা সেলিম খান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মন্দিরে পূজা দিতে গেলে তাঁর ছেলের ওপর হামলা হতে পারে। এ আশঙ্কার জবাবে রমেশ বিষ্ণোই সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এখন এ অধ্যায়ের অবসান হওয়া প্রয়োজন। একটি ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমেই বিরোধ মিটে যেতে পারে।

এর আগেও ‘অল ইন্ডিয়া বিষ্ণোই সমাজ’-এর সম্পাদক হনুমানরাম বিষ্ণোই সালমানকে একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও সালমানের বাবার আপত্তি

তবে বিষয়টি শুধু ধর্মীয় বা সামাজিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আইনি জটিলতাও। ২০১৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রাজস্থান হাইকোর্টে আবেদন করেন অভিনেতা। মামলাটি এখনো বিচারাধীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ছেলে সালমানের বিরুদ্ধে হরিণ হত্যার অভিযোগ মানতে নারাজ বাবা সেলিম খান। তাঁর দাবি, ছোটবেলা থেকে যে ছেলে একটি আরশোলাও মারতে পারেনি, সে কীভাবে হরিণ হত্যা করবে? এ কারণে ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সঙ্গে সালমান খানের বিরোধ নিরসনে ক্ষমা প্রার্থনার প্রস্তাব নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ধর্মীয় প্রথা, আইনি অবস্থান এবং সালমানের পরিবারের আপত্তির কারণে বিষয়টির সমাধান এখনো অনিশ্চিত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad