ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার আদালতে হাজির হন তিনি। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি পরীমনি। তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে সময়ের আবেদন করেন।
তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাঁর অভিযোগ, পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। পরে আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আগামী ২৩ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন আদালত।
যেভাবে মামলার সূত্রপাতমামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন ঢাকার বোট ক্লাবে গিয়ে বাদীর সঙ্গে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি তাঁকে সার্ভিং গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন। এতে তিনি আহত হন বলে অভিযোগ করেন নাসির উদ্দিন।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এদিকে বোট ক্লাবকাণ্ডে দায়ের করা পাল্টাপাল্টি মামলায় পরীমনি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ দুজনই বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন।

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স