সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুলে সিল্কসিটি হোটেলের ব্যবহৃত ময়লাযুক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি হালট কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে খালে দূষিত পানি প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি কৃষিজমি এবং জলজ পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটিকুমরুলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর পশ্চিম পাশে অবস্থিত সিল্কসিটি হোটেলের পানি নিষ্কাশনের জন্য কালিবাড়ী গ্রামের সরকারি হালট কাটা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, হোটেলের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের জন্য কালিবাড়ী গ্রামের সরকারি হালট দিয়ে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য সরকারি হালট কেটে পানি যাওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, হোটেলের ব্যবহৃত ময়লাযুক্ত পানি সরাসরি খালে পড়লে খালের পানি দূষিত হতে পারে। এতে খালের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়ানো, মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি এবং আশপাশের পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দূষিত পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করলে ফসল ও মাটির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খালের মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ পানি মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সরকারি হালট সাধারণত জনসাধারণের চলাচল ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ধরনের সরকারি সম্পত্তি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পানি নিষ্কাশনের স্বার্থে কাটা হলে জনসাধারণের চলাচল ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হালটের সীমানা ও শ্রেণি যাচাই করে পানি নিষ্কাশনের পথটি বৈধ কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হোটেলের ব্যবহৃত পানি পরিশোধন ছাড়া খালে ফেলা হচ্ছে কি না, সেটিও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা দরকার। সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারে কোনো অনিয়ম এবং পরিবেশদূষণের ঘটনা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্তের মাধ্যমে সরকারি হালট কাটার বৈধতা এবং পানি নিষ্কাশনের পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সরকারী হালট রাস্তা কাটার অভিযোগ বিষয়ে সিল্কসিটি হোটের মালিক হুদা বলেন, এ বিষয়ে কারোর কাছে অনুমতি নেই নাই। নিউজটা না করার অনুরোধ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে উল্লাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তা মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার