ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, আইনি চাপে পড়তে পারেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ রাত
  • ২১৯৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় তদন্ত জোরদারের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে ফিরে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে ফৌজদারি অভিযোগের মুখেও পড়তে পারেন ফিফা প্রধান।

গত ২৬ জুলাই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ইনফান্তিনো ও ফিফার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। তাঁদের অভিযোগ, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা অর্জনের উদ্দেশ্যে ইনফান্তিনো ও ফিফা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য ফিফা সভাপতিকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে তদন্তে ফিফার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক নয় বলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করেন ডেমোক্র্যাটদের এক মুখপাত্র। তাঁর ভাষায়, সংস্থাটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও জবাব ছিল ‘একেবারেই অপ্রতুল’।

এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের বাধ্যতামূলক সমন জারির ক্ষমতা ছিল না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় এখন সেই ক্ষমতা তাদের হাতে এসেছে। ফলে ইনফান্তিনোকে শুনানিতে হাজির করা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সমন অমান্য করে হাজির না হলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের পথও খুলতে পারে।

কুশনারের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন

তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে উন্মুক্ত করার একটি পরিকল্পনা। গত ২৮ জুলাই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানায়, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছিলেন ইনফান্তিনো।

একই দিন ফিফাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব এফএফইকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এই উদ্যোগে বিনিয়োগকারীদের নেতৃত্বে ছিল থ্রাইভ ক্যাপিটাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। ফলে ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনায় ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের হাতে ফিফা ঠিক কত অর্থ তুলে দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি এখনো জমা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ট্রাম্পকে দেওয়া ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ এবং জ্যারেড কুশনার ও ইনফান্তিনোর মধ্যকার কথিত গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিক্রির পরিকল্পনা কীভাবে এগিয়েছিল, সেসব প্রশ্নেরও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।

উয়েফার বিরোধিতায় বাতিল হয় পরিকল্পনা

ফিফার এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ তিনটি মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল উয়েফা। শেষ পর্যন্ত সমালোচনা ও বিরোধিতার মুখে গত ১ আগস্ট প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইনফান্তিনো।

তবে পরিকল্পনা বাতিল হলেও ফিফা সভাপতির ওপর উয়েফার আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। আগামী সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করানোর ঘোষণাও দিয়েছে সংস্থাটি। যদিও প্রার্থিতা জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে আফ্রিকা, এশিয়া, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে ইনফান্তিনোর সমর্থন এখনো শক্তিশালী। তবে মানবাধিকার ও ক্রীড়া অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফেয়ারস্কয়ার সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বৈধতা যেন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা হয়।

চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়েও বিতর্ক

ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ সভাপতি থাকতে পারেন। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে ফিফা কাউন্সিল এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইনফান্তিনোর প্রথম মেয়াদকে মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

ফিফার এই ব্যাখ্যার ফলে গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত মেয়াদসীমা অতিক্রম না করেই ২০২৭ সালের সভাপতি নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে ইনফান্তিনোর সামনে। তবে তাঁর এই সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগ, মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত এবং ফিফার অভ্যন্তরীণ বিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত কত দূর গড়ায়, সেটিই এখন তাঁর জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad