বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
নিট মুনাফা কমে ৩.৬ বিলিয়ন দিরহাম
এমিরেটস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামে, যা প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন দিরহাম বা প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে গ্রুপটির সামগ্রিক রাজস্ব ১২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২ বিলিয়ন দিরহামে, যা প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে সুদ, কর, অবচয় ও অ্যামোর্টাইজেশন-পূর্ব আয় (ইবিটডিএ) ৪১ শতাংশ কমে হয়েছে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহাম বা ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
যাত্রী পরিবহন কমেছে ২২ শতাংশ
আর্থিক মুনাফার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সময়ে এমিরেটস গ্রুপ মোট ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২২ শতাংশ কম।
ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় গ্রুপটির সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতা ১০ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ২ বিলিয়ন অ্যাভেইলেবল টন-কিলোমিটারে নেমেছে।
এ সময়ে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা (এএসকে) কমেছে ১৭ শতাংশ। আর প্রকৃত যাত্রী পরিবহনের পরিমাণ (আরপিকে) কমেছে ২৫ শতাংশ। আসন ব্যবহারের হারও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসন ব্যবহারের হার ছিল ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে।
নগদ অর্থ ও কর্মীসংখ্যাও কমেছে
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমিরেটস গ্রুপের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৪ দশমিক ১ বিলিয়ন দিরহাম বা ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। গত মার্চের শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহাম বা ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
ঋণ পরিশোধ, নতুন উড়োজাহাজ কেনার অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং মালিকপক্ষকে ২ বিলিয়ন দিরহাম বা ৫৪৫ মিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ দেওয়ার কারণে নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে।
এদিকে, একই সময়ে গ্রুপটির মোট কর্মীসংখ্যা ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জনে। তবে নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চ্যালেঞ্জের মধ্যেও লাভজনক থাকার দাবি
এমিরেটস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা সত্ত্বেও গ্রাহকদের স্থিতিশীল চাহিদা এবং শক্তিশালী কার্গো কার্যক্রমের কারণে গ্রুপটি এখনো লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আকাশপথে ভ্রমণ আবারও নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশের মধ্যেও উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে এমিরেটস গ্রুপ বলে জানান তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক