ভোরের হিমেল হাওয়ায় পাকুন্দিয়ায় শীতের আভাস

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ দুপুর
  • ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
রাতের গরম কমে এসেছে, ভোরে বইছে হালকা ঠান্ডা বাতাস। ধানের শীষ ও ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরকণা, কোথাও কোথাও দেখা মিলছে হালকা কুয়াশার। শরতের শেষভাগে প্রকৃতির এমন পরিবর্তনে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। রাত ও ভোরের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে শুরু করেছে ঋতুবদলের প্রভাব।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই সবুজ পাতা, ধানের শীষ ও মাকড়সার জালে জমে থাকা শিশিরকণা ঝলমল করছে। মেঠোপথ ধরে হাঁটলে গায়ে লাগছে শীতল বাতাস। কোথাও কোথাও পাতলা কুয়াশায় দূরের গ্রাম ও ফসলের মাঠ অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত গ্রামের সকাল যেন প্রকৃতিতে নতুন আবহ তৈরি করেছে।

ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা মুসল্লি, সকালে হাঁটতে বের হওয়া মানুষ এবং মাঠে কাজে নামা কৃষকদের অনুভূতিতেও ধরা পড়ছে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন। ভোরের শিশিরভেজা মাঠ আর হালকা ঠান্ডা বাতাস তাঁদের মনে করিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনের কথা।

উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আগের তুলনায় কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হয়। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাঠের ধানের শীষ ও ঘাসের ওপর শিশির জমে থাকতে দেখা যায়। হালকা কুয়াশায় দূরের গ্রামগুলোও অস্পষ্ট দেখায়। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, শীতকাল এগিয়ে আসছে।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের সকালবেলার কর্মব্যস্ততাও চোখে পড়ছে। কেউ জমি থেকে শাকসবজি তুলে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত ফসলের পরিচর্যায়। ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কৃষকেরা নেমে পড়ছেন মাঠের কাজে।

একই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ভোরে মাঠে যাওয়ার সময় কিছুটা ঠান্ডা লাগে। সকালের কুয়াশা শীতের আগমনের কথা মনে করিয়ে দেয়। রাতে পাতলা কাঁথা ব্যবহার করতে হচ্ছে। আগের মতো সব সময় বৈদ্যুতিক পাখা চালানোর প্রয়োজনও হচ্ছে না।

উপজেলার চরপলাশ গ্রামের বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, ভোরে ফসলের মাঠে গেলে ধানের শীষে শিশির জমে থাকতে দেখা যায়। সূর্যের আলো পড়ার পর শিশিরকণাগুলো ঝলমল করে ওঠে। গ্রামের সকালের এই দৃশ্য আবহাওয়ার পরিবর্তনের জানান দিচ্ছে।

ঘাগড়া গ্রামের গৃহবধূ নাসরিন আক্তার বলেন, আগে রাতে গরম বেশি অনুভূত হতো। এখন রাতের শেষ দিকে কিছুটা ঠান্ডা লাগে। গায়ে কাঁথা দিতে হচ্ছে। তাঁর ধারণা, শীতের দিন ঘনিয়ে আসছে।

এখনো শীতের তীব্রতা দেখা না দিলেও রাত ও ভোরের হালকা ঠান্ডা, শিশিরভেজা ঘাস এবং কুয়াশামাখা মেঠোপথে গ্রামীণ প্রকৃতি পাচ্ছে ভিন্ন রূপ। সবুজ মাঠের ধানের শীষে শিশিরের ঝিলিক আর ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশে ফুটে উঠছে ঋতুবদলের চেনা ছবি।

প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের মনে শীতের আগমনের প্রত্যাশা জাগাচ্ছে। ভোরের হিমেল বাতাস ও মাঠজুড়ে শিশির যেন জানান দিচ্ছে, শরতের আবহ পেরিয়ে শীতের দিন এগিয়ে আসছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad