মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুনানির সময় মাকছুদাকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি। তার পক্ষে কোনো আইনজীবীও আবেদন করেননি।
ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মের লাশগত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা মো. ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এজাহারে নির্যাতনের অভিযোগএজাহার অনুযায়ী, ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের সঙ্গে চলতি বছরের জুনে গাজী নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদের সঙ্গে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের একটি বাসায় থাকতেন।
মরিয়মের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও সতীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে এসব বিষয় জানিয়েছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি একটি কক্ষে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মরিয়মকে উদ্ধার করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মের বিছানায় থাকা হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। চিরকুটে মরিয়মের লেখা বিভিন্ন বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। তবে চিরকুটের বক্তব্য ও মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়।
আগে দল থেকে বহিষ্কারচলতি বছরের জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
দলটির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বর্তমানে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামসহ তিনজন আসামি রয়েছেন। মামলার অভিযোগ ও চিরকুটে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬; শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার; আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স