নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা, ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্তরা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ বিকাল
  • ৪৪০১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থামছে না। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে একের পর এক ফসলি জমি, বসতভিটা ও মানুষের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সম্পদ। নদীভাঙন রোধে ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ডাইক (নদীর তীররক্ষা বাঁধ) নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

নবীগঞ্জের পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর অপর পাড়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নেও ভাঙনের প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার এসব এলাকার বাসিন্দারা জমি ও বসতভিটা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল কদ্দুছ জানান, তাঁর তিন একর ফসলি জমির পুরোটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু হলে মূল ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ও বস্তা ফেলার জন্য ঠিকাদারকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেখানে কাজ না করে তুলনামূলক শুকনো জায়গায় বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি বলেন, এভাবে কাজের নামে অবহেলা চলতে থাকলে অবশিষ্ট জমি ও বসতবাড়িও রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

আরেক কৃষক আ. হাদী বলেন, নদীভাঙনে শুধু ফসলি জমিই নয়, একের পর এক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। ইতোমধ্যে এলাকার অন্তত ৫০০ পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আকুল মিয়া অভিযোগ করেন, ডাইক নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা অনিয়মের কারণে এলাকাবাসী প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না। কুশিয়ারা নদীর ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সাবেক ইউপি সদস্য ফখরু মিয়া ও মহসীন মিয়া জানান, দীঘলবাকসহ নদীতীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কাজ করলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছরই নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান বলেন, শেরপুর ব্রিজ থেকে দীঘলবাক, পাহাড়পুর, মার্কুলী হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। দীঘলবাকের সব পয়েন্টে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়নি। যেসব স্থানে কাজ শেষ হয়েছে, সেখানে ভাঙন রোধ করা গেছে। বাকি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের কাজের গতি বাড়িয়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও টেকসই তীররক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad