শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন রাশেদ খান। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তাহসিফের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর সাধারণ মানুষ প্রথম জানতে পেরেছিল তাহসিফের ফেসবুকে দেওয়া ভিডিওর মাধ্যমে। ওই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করায় তিনি নানা ধরনের জবাবদিহির মুখে পড়েছিলেন। এ কারণে তিনি তাহসিফকে একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে একটি পত্রিকায় তাহসিফকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর এজেন্ট হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। কোনো তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করে কাউকে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়। তাহসিফ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলেও তাঁর একটি পডকাস্টে দেখেছেন বলে জানান রাশেদ খান।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আটক বন্ধুর বক্তব্যে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত সংস্থার উচিত নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা। তাহসিফের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উল্লাস করতে দেখা গেছে দাবি করে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো গুপ্তচরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
জামায়াতের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ তোলেন রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, এ বৈঠকের তথ্য-প্রমাণ তাঁর কাছে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রয়েছে।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের নেতারা প্রকাশ্যে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করলেও গোপনে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যেই দলটি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ যেভাবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজনীতি করত, জামায়াতও এখন একই পথে হাঁটছে। বিষয়টি দেশের মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
খুলনার লং মার্চ নিয়ে চ্যালেঞ্জ
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের খুলনার লং মার্চ প্রসঙ্গে রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত কেন ঢাকা থেকে লং মার্চ নিয়ে গোপালগঞ্জ যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব না দেওয়ার দাবি করা হলে গোপালগঞ্জে একটি পথসভা করে তা প্রমাণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচনী রাজনীতিতে খুলনা বিভাগকে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে লং মার্চে খুলনা বিভাগের মানুষ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করবে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, এ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে না।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক