নীলফামারীতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক, লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি আমন আবাদ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ বিকাল
  • ৩৬০৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
নীলফামারীতে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটা অর্জিত হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারীতে মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর। এর মধ্যে অবশিষ্ট জমিতে শাকসবজি ও অন্যান্য মসলা জাতীয় ফসল চাষ হচ্ছে। জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আমনসহ অন্যান্য ফসলের জন্য জেলায় ইউরিয়া ৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন, টিএসপি ৫৮৮, ডিএপি ১ হাজার ৮৬১ এবং এমওপি ১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন সারের চাহিদা ছিল। এসব সারের বিপরীতে শতভাগ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া ৩ হাজার ১৫৬, টিএসপি ২২০, ডিএপি ২ হাজার ৮ এবং এমওপি ১ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে ইউরিয়া ১ হাজার ৯১৬, টিএসপি ৮৯, ডিএপি ৭০০ এবং এমওপি ৫৯০ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে।

জেলায় সার ডিলারের সংখ্যা ২০৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪, সৈয়দপুরে ৩৪, ডোমারে ৩১, ডিমলায় ৩২, জলঢাকায় ৩৫ এবং কিশোরগঞ্জে ৩০ জন। ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মঙ্গলবার জেলা সদরের পলাশবাড়ি বাজারের মেসার্স পোদ্দার ব্রাদার্সে গিয়ে সার বিতরণের স্বাভাবিক চিত্র দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নিশিত কুমার পোদ্দার জানান, সকাল থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত ১০ জন কৃষক সার সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের যৌক্তিক চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগস্টে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৫০ কেজির ৬৭ বস্তা টিএসপি, ১ হাজার ৮২০ বস্তা ইউরিয়া, ২২৩ বস্তা পটাশ ও ১৮৭ বস্তা ডিএপি সরবরাহ করা হয়। সেপ্টেম্বরে পাওয়া গেছে ২৩ বস্তা টিএসপি, ১২৪ বস্তা পটাশ, ২৩৮ বস্তা ডিএপি ও ৯২০ বস্তা ইউরিয়া।

বর্তমানে প্রতি কৃষককে ইউরিয়া দুই বস্তা এবং অন্যান্য সার এক বস্তা করে দেওয়া হচ্ছে। আমন জমিতে এখন টিএসপির প্রয়োজন না থাকলেও অনেক কৃষকের মধ্যে এ সারের চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, কৃষির নিবিড়তা বাড়লেও বরাদ্দ আগের মতো থাকায় কৃষির নিবিড়তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুষম বরাদ্দ ও ডিলারদের মধ্যে বণ্টন প্রয়োজন।

জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কৃষক রমজান আলী তিন বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তিনি জানান, সময়মতো সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করতে পেরেছেন এবং এ জন্য কোনো হয়রানির শিকার হননি। তবে চারা রোপণের ২২ দিন পর টিএসপি ব্যবহারের প্রয়োজন মনে হলেও বাজারে বাংলা টিএসপি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য কোম্পানির একই ধরনের সার পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হুমায়রা মন্ডল বলেন, মাঠপর্যায়ে সারের সংকটের কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই। জেলায় সারের সংকট নেই এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, অনেক কৃষকের ধারণা, বেশি সার ব্যবহার করলে ফলন বেশি হবে। এ কারণে কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে সচেতন করা হচ্ছে। টিএসপি একবার প্রয়োগ করাই যথেষ্ট। বাজারে টিএসপি তুলনামূলক কম থাকলেও পর্যাপ্ত ডিএপি ও ডিএসপি রয়েছে এবং এসব সারের গুণগত মান একই।

কৃষকদের সচেতন করতে উঠান বৈঠক, কৃষক সমাবেশ ও কৃষক মাঠ স্কুলে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে। আমন মৌসুমে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় নির্ধারিত সময়ে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad