শুষ্ক মৌসুমেও সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও ভ্যানচালকদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালিজুরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রাঙ্গাজান পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে এসব স্থান কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে আছে। এতে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে মাটি ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হলেও বৃষ্টির পানিতে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
ভোগান্তিতে কৃষক-শিক্ষার্থী-রোগীস্থানীয় ভ্যানচালক মিনার হোসেন বলেন, ‘ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করে সংসার চালাই। রাস্তাটি দিয়ে দীর্ঘদিন বালু পরিবহনের ফলে অনেক জায়গায় ছোট-বড় গর্ত হয়েছে। এখন সেখানে হাঁটু পরিমাণ কাদা। এরপরও উপার্জনের জন্য এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এতে প্রায়ই ভ্যান নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
ছোট বালিজুরি গ্রামের কৃষক আসমত আলী বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিরন বেগম বলেন, বৃষ্টির সময় রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে যায়। নারী ও বয়স্কদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হয়। অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
রাঙ্গাজান গ্রামের দোকানি মোতালেব বলেন, দোকানের মালামাল আনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এতে ব্যবসার লাভ কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনেও সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি। তাই স্থায়ীভাবে সংস্কার ও পাকাকরণ প্রয়োজন।
স্কুলছাত্র সালমান ফারসি জানায়, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে সড়ক কাদায় ভরে যায়। এতে পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্যাহত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলস্থানীয়দের দাবি, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শুধু সাধারণ মানুষের চলাচলই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা এলাকাটিকে মাদক ও ভারতীয় চোরাই পণ্য পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসশ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, বালিজুরি-রাঙ্গাজান সড়কের সমস্যার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি শেষ হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকার কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থায় দুর্ভোগ কমবে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স