সরেজমিনে দেখা যায়, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন প্রায় ২০ একর জায়গায় কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর পূর্ব পাশে বিস্তৃত সুন্দরবন। নদী, বন ও জীববৈচিত্র্যের সৌন্দর্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে সেখানে চারতলাবিশিষ্ট ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। তবে নির্মাণস্থলে জোয়ারের পানির মধ্যে এখনো দাঁড়িয়ে আছে চারটি পিলার ও সিঁড়ির একটি ধাপ। ভূমি ভরাটসহ বাকি কাজের তেমন অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ‘কয়রা সদর ইউনিয়নে কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১৯১ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৬ লাখ ২২ হাজার ১৫৯ টাকায় কাজটি পায় মেসার্স সৈয়দ জিয়াউল হক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট ২০২৪ কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ২৯ মে’র মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়েই আটকে রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জিয়াউল হক বলেন, পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের পদক্ষেপ না নেওয়ায় বর্তমানে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ ছাড় হলে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান বলেন, যথাসময়ে অর্থ ছাড় না হওয়ায় ঠিকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন। দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করে কাজ শুরু করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগতমান নিশ্চিত করে প্রকল্পটি শেষ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এলাকাটি বিকশিত হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটন অবকাঠামোর কাজ শুরু করে দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ ফেলে রাখায় সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দ্রুত অর্থ ছাড়ের জটিলতা নিরসন করে নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই বিষয়টি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক