প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারু-কারুকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে কোমলমতি শিশুদের ওপর কোনো নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ধারা চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ জনমতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ নাগরিক গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নসহ নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া যথাযথ নয়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের মতে, শিশুদের প্রকৃত বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষায় নৈতিক, চারিত্রিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও জবাবদিহিতার শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠলে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক চেতনা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শিক্ষানীতি প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অভিভাবক, আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এ বিষয়ে সজাগ ও সোচ্চার থাকারও আহ্বান জানায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। :

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার