ফেসবুক-মেটাকে জবাবদিহির আওতায় আনছে সরকার, আসছে কঠোর সাইবার আইন

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ বিকাল
  • ৭২১২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিওর বিস্তার রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধিত আইনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নোটিশটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

নোটিশে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অসংখ্য আইডি ও পেজ, সংগঠিত বট নেটওয়ার্ক এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিওর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানির ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারপ্রধান, তার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে প্রচারিত কিছু কনটেন্ট প্রকৃতপক্ষে সেই স্বাধীনতার সীমার মধ্যে পড়ে কি না, তা নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন আইনে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এসব কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও অপমানজনক কনটেন্ট তৈরির বিষয়ও আইনের আওতায় আনা হবে।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইনে মেটার মতো প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার সুযোগ নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।

তিনি জানান, সংশোধিত আইনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্টকৃত কনটেন্ট নিষ্পত্তিতে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক কিংবা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হবে।

সংসদে আলোচনার একপর্যায়ে অনলাইন জুয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এখনও ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন দিয়ে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অথচ প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়ার বিস্তার ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad