শাবানা-শাবনূরকে দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন, বিরতির পর জিমের নতুন পথচলা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ দুপুর
  • ৯৮৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু, পড়াশোনার বিরতি পেরিয়ে ২০২৩ সালে ফের অভিনয়ে; বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান মাফতুহা জান্নাত

ঢাকাই নাটকের নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী মাফতুহা জান্নাত। দর্শকের কাছে তিনি পরিচিত ‘জিম’ নামে। কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা ও শাবনূরের ভক্ত ছিলেন ছোটবেলা থেকেই। তাঁদের সিনেমা দেখেই অভিনয়ের স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নের পথে শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। পরে শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনে কাজ এবং সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। তবে পড়াশোনার কারণে দীর্ঘ বিরতি নিতে হয়। বিরতি কাটিয়ে ২০২৩ সালে নতুন করে অভিনয়ে ফেরেন জিম।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান মাফতুহা। এতে জয়া আহসানের অভিনীত রানু চরিত্রের শৈশবের স্মৃতিচারণার অংশে দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা নিয়মিত অভিনয়ের পথ তৈরি করতে পারেনি। পড়াশোনা শেষ করার দিকে মনোযোগ দেওয়ায় দীর্ঘদিন ক্যামেরার বাইরে ছিলেন তিনি।

অভিনয়ে ফেরার পর বাবু সিদ্দিকীর পরিচালনায় ‘সিক্রেট গার্লফ্রেন্ড’ নাটকের মাধ্যমে নাট্যজগতে যাত্রা শুরু করেন জিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে নির্মাতা বাবু সিদ্দিকীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহের কথা জানার পর নির্মাতা তাঁকে কাজের সুযোগ দেন।

এরপর মাবরুর রশিদ বান্নাহর পরিচালনায় ‘যত্ন’ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। জিমের ভাষায়, নাটকটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এতে ইরা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান তিনি। এখনো অনেক দর্শক তাঁকে ইরা নামে ডাকেন। সহশিল্পী আরশ খানের সঙ্গে তাঁর জুটিও দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।

এই জুটিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহের পর সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘দোষটা কার?’ নাটকে অভিনয় করেন জিম। এতে আগের পরিচিত চরিত্রের বাইরে গিয়ে জটিল মনস্তাত্ত্বিক আবেগ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। নাটকটি প্রচারের পর দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান। এতে অভিনয় নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।

সম্প্রতি ‘বিষপাখি’, ‘পেট্রোল’ ও ‘আহা একি মায়া’—এই তিন নাটকের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন জিম। তিনটি নাটকের গল্প ও চরিত্রে রয়েছে ভিন্নতা। রোমান্স, ড্রামা থেকে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার—বিভিন্ন ধারার গল্পে কাজের অভিজ্ঞতাকে আলাদা বলে মনে করেন তিনি।

জিমের মতে, দর্শক এখন একঘেয়ে গল্প দেখতে চান না। তাই প্রতিটি চরিত্রে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার মতো উপাদান রাখার চেষ্টা করেন তিনি। চরিত্রের পরিচিত রূপ ও বাস্তবতার সংযোগই দর্শকের কাছে কাজগুলো গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।

নতুনদের অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জিম। তাঁর মতে, অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক নতুন মুখ নিয়ে কাজ করতে ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে শুরুতে একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব বেশি আসে। অভিনয়দক্ষতা প্রমাণের জন্য বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্র পাওয়া নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশে তাঁদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যকলার পড়াশোনাও তাঁর অভিনয়চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জিম বলেন, অভিনয় শুধু সংলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; চোখের অভিব্যক্তি কিংবা শরীরের সামান্য অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও চরিত্রের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। অতিরঞ্জন এড়িয়ে চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তোলা, চিত্রনাট্যের মূল ভাবনা বোঝা এবং পরিচালকের চাহিদা অনুযায়ী অভিনয় করতে এই পড়াশোনা তাঁকে সহায়তা করেছে।

ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার সঙ্গে কাজের চেয়ে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়কেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান মাফতুহা জান্নাত। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে—এমন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার আগ্রহ তাঁর। মানুষের মনের নানা রূপ এবং সাদা-কালোর বাইরে থাকা জটিল বাস্তবতা পর্দায় তুলে ধরতে চান তিনি। পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সংগ্রামী ও শক্তিশালী নারীদের গল্পও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনতে চান।

শিশুশিল্পী থেকে বিরতি পেরিয়ে নতুন করে অভিনয়ে ফেরা—জিমের এই পথচলায় এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নিজেকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad