স্ত্রীর পর্দা পালনে বাধা দিলে স্বামীর করণীয় কী, জানালেন মুফতি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ বিকাল
  • ২৮৭৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার বজায় রেখেই স্ত্রীর ধর্মীয় বিধান পালনে সহযোগিতা করতে হবে

ইসলামে পর্দা নারী-পুরুষের শালীনতা, চারিত্রিক পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। একজন মুসলিম নারীর পর্দা পালনের পাশাপাশি স্ত্রীর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পরিবেশ তৈরি করাও স্বামীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে স্ত্রীর পর্দা পালন নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে স্বামীর করণীয় কী—এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা তুলে ধরেছেন আলেমরা।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের পারিবারিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে স্ত্রীর পর্দা পালনে সহযোগিতার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রশ্নকারী জানান, তাঁর স্ত্রী পরিপূর্ণভাবে পর্দা পালন করতে চান। কিন্তু গ্রামে বসবাসের কারণে ঘরের বাইরে বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। অন্যদিকে, শ্বশুর-শাশুড়ির পক্ষ থেকে যথাযথ পর্দা পালনের সুযোগ না পাওয়ায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন। প্রশ্নকারী ঢাকায় চাকরি করেন এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে পর্দাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাও তাঁর পক্ষে কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর করণীয় জানতে চান তিনি।

জবাবে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, স্ত্রীর পর্দা পালনে সহযোগিতা করা স্বামীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও তাঁদের সম্মান বজায় রাখাও সন্তানের কর্তব্য। তাই এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে শরিয়তের বিধান পালনের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি না ঘটে।

গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে পর্দা জরুরি

মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, শরিয়ত যেসব পুরুষের সামনে পর্দা করা আবশ্যক করেছে, তাঁদের সামনে যথাযথ পর্দা পালন করতে হবে। দেবর, ভাসুর, চাচাতো ও ফুফাতো ভাইসহ অন্যান্য গায়রে মাহরাম পুরুষের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্বামীর নিকটাত্মীয় পুরুষ (যেমন দেবর-ভাসুর) অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩২)

বাবা-মাকে বোঝাতে হবে বিনয়ের সঙ্গে

আলেমের পরামর্শ অনুযায়ী, স্ত্রীকে পর্দা পালনে সহযোগিতা করতে স্বামীকে বাবা-মায়ের সঙ্গে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাঁদের বোঝাতে হবে, স্ত্রী পরিবারের কাজকর্ম ও তাঁদের সেবাযত্ন করতে আগ্রহী। তবে কাজের সময় শরিয়তসম্মত পোশাক পরিধান করে পর্দা বজায় রাখার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া ঘরের কাজের ধরন ও সময় এমনভাবে নির্ধারণ করা যেতে পারে, যাতে গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে আসার প্রয়োজন কমে এবং স্ত্রীর জন্য পর্দা পালন সহজ হয়।

শরিয়তবিরোধী কাজে আনুগত্য নয়

মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, বাবা-মা যদি এমন কোনো কাজে বাধ্য করেন, যা শরিয়ত অনুযায়ী গুনাহের কাজ, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁদের আনুগত্য করা যাবে না। তবে এ কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা কিংবা তাঁদের অধিকার অবহেলা করাও বৈধ নয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা হলো, স্রষ্টার অবাধ্যতার কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তিনি যা দিয়েছেন, তার অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না।’ (সুরা আত-তালাক, আয়াত: ৭)

বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ

স্ত্রীর পর্দা ও দ্বীনদারি রক্ষায় স্বামীকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন এই আলেম। প্রয়োজনে গ্রামে চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করা কিংবা স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলের কাছে নিয়ে আসার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে এসব ব্যবস্থা গ্রহণে সময় লাগলে সাময়িকভাবে স্ত্রীকে কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় ঢিলেঢালা ও অনাকর্ষণীয় পোশাক বা বোরকা পরিধান করতে হবে। বড় ওড়না দিয়ে মাথা, বুক ও পিঠ ঢেকে রাখতে হবে। চেহারা ঢাকার জন্য নিকাব বা উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

সবশেষে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, প্রথমে বাবা-মাকে সম্মানের সঙ্গে বুঝিয়ে স্ত্রীর জন্য পর্দাবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে হবে। এতে সফল না হলে আর্থিক ও পারিবারিক সামর্থ্য অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্ত্রীকে নিজের কাছে নিতে না পারলেও সাধ্যের মধ্যে তাঁর দ্বীন পালন ও পর্দা রক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad