বিয়ের প্রস্তাব ও সম্মতি রসিকতার ছলে দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে কার্যকর হতে পারে। তাই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা না করার পরামর্শ দিয়েছেন মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব ও তা গ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে রসিকতার ছলেও বিয়ে সম্পন্ন হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় বিয়ে হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং শরিয়তের প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করা জরুরি।
বিয়ে, তালাক ও স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিধানপ্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বয়োজ্যেষ্ঠরা কখনো রসিকতা করে কাউকে কারও সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ওই নারীও হাসি-তামাশার ছলে সম্মতি জানান এবং সেখানে কয়েকজন উপস্থিত থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ে কার্যকর হবে কি না। একইভাবে, ছোটবেলায় অভিভাবকেরা রসিকতা করে বিয়ের কথা বললে তা শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয় কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তিনটি বিষয় এমন, যা গুরুত্বের সঙ্গে বললেও কার্যকর হয়, আবার রসিকতা করে বললেও কার্যকর হতে পারে। বিষয়গুলো হলো—বিয়ে, তালাক এবং তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণের ক্ষেত্রে সাক্ষীসহ শরিয়তের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর বক্তব্যে অন্তত দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্দেহ থাকলে করণীয়কোনো ঘটনায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যত্র বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ, প্রথম বিয়ে শরিয়ত অনুযায়ী কার্যকর হয়ে থাকলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে আগের বৈবাহিক সম্পর্কের বিধান বিবেচনায় নিতে হবে।
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি বলেন, বিয়ে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই এ বিষয়কে ঠাট্টা-বিদ্রূপের উপলক্ষ না বানিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক