ফ্রান্সে নতুন বিক্ষোভের শঙ্কা, নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েনের ঘোষণা

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৬ দুপুর
  • ২২০২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভ সামনে রেখে এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে বিভিন্ন শহরে সংঘটিত সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেছে দেশটির সরকার।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, আগামী শনিবার নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৭ অক্টোবর প্যারিস, মার্সেই, লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামবে সেনাবাহিনী

পার্লামেন্টে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের কৌশল নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু চলমান সংকটকে ‘সহিংসতা ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অস্থিরতার জন্য কট্টর বামপন্থিদের দায়ী করেন।

তবে কট্টর বামপন্থিদের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সরকার তা যথাযথভাবে আমলে নেয়নি।

কারফিউ বাড়ানো, গোয়েন্দা ব্যর্থতা স্বীকার

গত সপ্তাহান্তের সহিংসতার পর ফ্রান্সে তুলনামূলক শান্ত একটি রাত পার হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, অস্থিরতাপ্রবণ কয়েকটি এলাকায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কারফিউ জারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে জারি করা বিভিন্ন বিধিনিষেধ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের লক্ষ্য করে জারি করা কিছু কারফিউও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু স্বীকার করেছেন, সপ্তাহান্তে সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রতিক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থতা, পুলিশের স্থির অবস্থানভিত্তিক মোতায়েন এবং আগে থেকে নির্ধারিত পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল না করার সিদ্ধান্তকে তিনি নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নিজের দায় স্বীকার করেছেন।

নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ফ্রান্সজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি প্রার্থীদের শক্তিশালী অবস্থান রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

এ অবস্থায় সম্ভাব্য নতুন বিক্ষোভ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই ফরাসি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad