চিকিৎসার ব্যয় বহনে অসচ্ছল পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কমানো এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। রোগীর আর্থিক অবস্থা ও চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনায় সহায়তার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করা হবে।
যে সাত রোগে মিলবে সহায়তাসরকারের এ কর্মসূচির আওতায় সাতটি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। রোগগুলো হলো—
১. ক্যানসার
২. কিডনি রোগ
৩. লিভার সিরোসিস
৪. প্যারালাইসিস
৫. হৃদরোগ
৬. লিউকেমিয়া
৭. থ্যালাসেমিয়া।
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের আয়, ব্যয় ও সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগী, জীবনঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত যোগ্যতা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন রোগী একই অর্থবছরে একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ সহায়তা পেতে পারবেন। আবেদনে ভুল তথ্য বা জাল কাগজপত্র পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবেআবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি।
নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্য।
রোগী বা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি।
চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র।
রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি।
রোগভেদে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্টআবেদনকারীর রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা ও রোগ শনাক্তকরণের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
ক্যানসার: টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন।
কিডনি রোগ: রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার রিপোর্ট। প্রয়োজনে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্রও লাগতে পারে।
লিভার সিরোসিস: লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম, ফাইব্রোস্ক্যান ও প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার রিপোর্ট।
প্যারালাইসিস: এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা নির্দেশনায় গ্রহণযোগ্য রোগের প্রমাণপত্র।
হৃদরোগ: এনজিওগ্রাম, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন।
থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়া: হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিসসহ রোগভেদে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্ট।
প্রদত্ত নির্দেশনায় পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো না হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে রোগভেদে কোন রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য এবং কত দিনের মধ্যে করা হতে হবে, তা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
যেভাবে আবেদন করবেনচিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রথমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা দেখতে হবে। অনলাইন আবেদন চালু থাকলে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দিতে হবে।
এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্রের প্রিন্টকপি, চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র এবং পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হতে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, আবেদন ফরম ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রসহ দুই কপি আবেদন সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথাও রয়েছে।
অনলাইন আবেদন, কাগজপত্র জমা ও যাচাইয়ের সর্বশেষ নিয়ম জানতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা উচিত।
অনলাইন পোর্টাল: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা পোর্টাল
আবেদন করার আগে সতর্কতাসহায়তার জন্য আবেদন করলেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়। রোগের প্রমাণ, আর্থিক অসচ্ছলতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি যাচাইয়ের ভিত্তিতে উপযুক্ত রোগী নির্বাচন করা হবে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা, যোগ্যতার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নথির তালিকা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক