ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে শীতকালীন সবজি বাজারজাত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। মূলত খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলা থেকে আগাম সবজি আসছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।
পাইকারি বাজারে চড়া দামগত রোববার দিবাগত রাত দেড়টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও মুলা আনা হচ্ছে। আড়ত ও ফুটপাতে সবজি সাজিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ ট্রাক থেকে সবজি নামাচ্ছেন, আবার কেউ সরাসরি ট্রাক থেকেই খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন।
পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১২০ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা। মুলা প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং খুলনা থেকে আসা দেশি টমেটো ৭০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে আগাম সবজির আকার এখনো তুলনামূলক ছোট। বাজারে আসা টমেটোর অনেকটিতেই রয়েছে সাদাটে ও সবুজ আভা। চাহিদা থাকায় কিছু কৃষক পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই সবজি তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন।
খুচরা বাজারে শিম ২০০, টমেটো ১৮০ টাকাসোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। প্রতি কেজি শিম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পটোল ৬০ থেকে ১০০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০, ঝিঙা ৭০ থেকে ১০০, বেগুন ৮০ থেকে ১৪০, করলা ৮০ থেকে ১২০, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ এবং ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া বরবটি ৮০ থেকে ১০০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০, শসা ৭০ থেকে ৮০, মুলা ৫০ থেকে ৮০, কচু ৫০ থেকে ৬০ এবং ওল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি আঁটি পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লালশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরবরাহ বাড়লে কমতে পারে দামকারওয়ান বাজারের কাঁচামালের আড়তদার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শীতকালীন সবজি এলেও বর্তমানে মূলত খুলনা বিভাগের জেলাগুলো থেকেই আগাম সবজি আসছে। অন্য অঞ্চলের সবজি এখনো বাজারজাত করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে। তাঁর ভাষ্য, ভরা মৌসুমে কখনো কখনো অবিক্রীত মুলা ফেলে দিতে হয়। আবার বড় আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।
আরেক সবজি ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, কাঁচাবাজারে সবজির দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তিত হয়। রাতের তুলনায় ভোরে অনেক সবজির দাম কমে আসে। আগের রাতে প্রতি কেজি শিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোরে তা ৯৫ টাকায় নেমে আসে। একইভাবে রাতে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোরে দাম কমে ৩০ টাকায় দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, খুচরা পর্যায়ে এলাকাভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। গুলশান ও ধানমন্ডির মতো এলাকায় সবজির দাম মহাখালী বা শ্যামলীর তুলনায় বেশি হতে পারে। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে সবজি কিনলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পেতে পারেন।
বাড়তি দামে চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তক্রেতাদের অভিযোগ, শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের সঙ্গে সবজির বাড়তি দাম যুক্ত হওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
পেঁপে, পটোল, লাউ ও মিষ্টিকুমড়ার মতো কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও পছন্দের মৌসুমি সবজি কিনতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক ক্রেতাকে তাই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনতে হচ্ছে।
আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। তবে সেই স্বস্তি পেতে ক্রেতাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক