দুই মাসে কৃষিঋণের খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ দুপুর
  • ২৮৪৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
আগস্ট শেষে খেলাপির হার ৪২.৩৮ শতাংশ, পুরো ব্যাংক খাতের চেয়েও বেশি

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্র দুই মাসে ১১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে কৃষিঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অথচ একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ২২ শতাংশ। দুই মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। তবে এই বৃদ্ধির পেছনে ঋণ শ্রেণিকরণসংক্রান্ত নতুন নীতিমালার বড় প্রভাব রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালার পরিবর্তনে বেড়েছে খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং বা নিরাপত্তা সঞ্চিতিসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ নীতিমালায় ঋণের কিস্তি বা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের নির্ধারিত মেয়াদের পরদিন থেকেই তা বকেয়া হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। বকেয়া থাকার সময়ের ভিত্তিতে ঋণ নিয়মিত ও খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কঠোর করা এবং গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা কমিয়ে আনার ফলে কৃষি খাতের বিপুল পরিমাণ ঋণ একসঙ্গে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা কার্যকরের আগে, ২০২৪ সালের জুন শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।

ঋণ মওকুফের পরও বাড়ছে খেলাপি

দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে কৃষি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪৬ শতাংশও কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

কৃষকদের সহায়তায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ মাফ করা হয়। এরপরও কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

দুই মাসে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪২ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস—জুলাই ও আগস্টে—কৃষি ও পল্লি খাতে ব্যাংকগুলো ৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এটি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২ হাজার ৩২ কোটি টাকা বা ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ খাতে মোট ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল।

এবার কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঋণ আদায়েও অগ্রগতি

কৃষিঋণ বিতরণের পাশাপাশি ঋণ আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে কৃষি খাতে ৭ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা ঋণ আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৬ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে ঋণ আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২১ শতাংশ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad