প্রার্থীদের' হলফনামা বিশ্লেষণ:শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও সম্পদের বিস্ময়কর তথ্য

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৭ দুপুর
  • ৪১১১৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামায় উঠে এসেছে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও সম্পদের পাশাপাশি বিস্ময়কর সব তথ্য। ইশরাক হোসেনের কোটি টাকার ব্যাংক আমানত থেকে শুরু করে হুম্মাম কাদেরের স্ত্রীর বিপুল সম্পদ এবং শাহ রিয়াজুল হান্নানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক।


ইশরাক হোসেন

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত এ প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ছয় কোটি ১৫ লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে রয়েছে প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। কৃষি ও অকৃষি জমির মূল্য এক কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি। মরহুম সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও বিএনপির এই প্রার্থী পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন, চাকরি ও ব্যবসা দুটিই। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি। তার আয়ের প্রধান উৎস চাকরি, বাড়ি ভাড়া ও শেয়ার ব্যবসা। বছরে তার আয় ৬২ লাখ টাকা।


আব্দুল মান্নান


ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইশরাকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল হান্নান। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার কোনো ঋণ, বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। নগদ প্রায় ১১ লাখ টাকা। আর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৮ লাখ টাকা। মামলা রয়েছে ২১টি। এই প্রার্থীর পেশা শিক্ষকতা। শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি। বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীনের পেশা মার্কেটিং কনসালট্যান্ট। চাকরি থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার হাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে আছে ৫ লাখ টাকা। উভয়ের ২২ লাখ টাকার অলঙ্কার আছে। তার নামে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। ব্যাংকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ হাজার টাকা জমা আছে; স্ত্রীর নামে আছে ছয় লাখ টাকার বেশি। ৪০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও আসবাব আছে এক লাখ টাকার। সম্পদ ৪০ লাখ টাকার।


সাঈদ আল নোমান


চট্টগ্রাম-১০ আসনের এই প্রার্থী ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদ রয়েছে। বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা এবং স্ত্রীর নামে সাড়ে তিন কোটি টাকা। এছাড়া ১০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও বিনিয়োগ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তিনি পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এমফিল।


হুম্মাম কাদের চৌধুরী


চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী হুম্মামের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ কয়েকগুণ বেশি। তার সম্পদ ৮৪ লাখ টাকা হলেও তার স্ত্রী শ্যামানজারের সম্পদ ৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বেশি। বিএনপি নেতা মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম তরুণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও সারা দেশে পরিচিত। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন। পেশায় তিনি ও তার স্ত্রী ব্যবসায়ী। হুম্মামের নামে কোনো মামলা নেই, বাড়িও নেই। একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিমের নামেও মামলা নেই। তিনি পেশায় চিকিৎসক হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।


সারজিস আলম


এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনে। তার সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তার নামে একটি তদন্তাধীন মামলা রয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে সারজিস আলমের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় আরো জানানো হয়, তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভবন বা গাড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্র নেই। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য দেড় লাখ টাকা।


শাহ রিয়াজুল হান্নান


গাজীপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানের হলফনামা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নিজেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘এলএলবি’ পাস বলে দাবি করেছিলেন। অথচ সাত বছর পর এ বছরের নির্বাচনে তিনি নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলফনামায় তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়া দণ্ডবিধির ১৮১ ও ১৯৩ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ। এর ফলে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলসহ জেল-জরিমানাও হতে পারে। জুলাই বিপ্লবের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় এবার তিনি ‘স্বশিক্ষিত’ পরিচয় দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।


নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের দেওয়া এই তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কোনো প্রার্থীর তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের মুখে পড়তে পারেন তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad