ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় ডিকশির বিলের রূপ। কখনো বিস্তীর্ণ জলরাশি, কখনো পাখির কলরব, আবার কখনো ফসলের সমারোহে ভরে ওঠে বিলের চারপাশ। বর্ষায় পদ্ম, শাপলা ও শালুকের সমারোহে বিলটি হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়।
পদ্ম-শাপালায় নয়নাভিরাম বিলএ বছর পর্যাপ্ত পানি না আসায় বিস্তীর্ণ বিলটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়নি। তারপরও প্রায় ১৫টি গ্রাম ঘিরে থাকা ডিকশির বিলে প্রকৃতির আপন খেয়ালে ফুটেছে পদ্ম, শাপলা ও শালুক। ফুটন্ত পদ্ম আর বাড়ন্ত শাপালের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর বর্ষায় বিলে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত পানি থাকে। বিলপাড়ের মানুষ রাস্তা থেকেই নৌকায় উঠে বিল ঘুরে দেখেন।
ডিকশির বিলপাড়ের বাসিন্দা ও মাঝি আমজাদ হোসেন বলেন, এ বছর বিলের বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত পানি রয়েছে। পানি তুলনামূলক কম হলেও পুরো বিলজুড়ে পদ্ম, শাপলা ও শালুকের সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। স্থানীয়রা ডিকশির বিলকে ‘পদ্মবিল’ নামেই ডাকছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পদ্মবিলে আসছেন। তারা নৌকায় করে বিল ঘুরে দেখছেন।
সড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে পর্যটকেরা এলেও বিলের পাড়ে যাওয়ার রাস্তার অবস্থা নাজুক। কাদা-পানি মাড়িয়ে যেতে হওয়ায় অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিলে যেতে সমস্যায় পড়েন।
কুষ্টিয়া থেকে পদ্মবিল দেখতে আসা কলেজ শিক্ষক শরিফ শাহরিয়ার বলেন, বন্ধুদের কাছে গল্প শুনে পদ্মবিল দেখতে এসেছেন। এখানকার সৌন্দর্য দেখে তার চোখ জুড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির এক অপরূপ মেলবন্ধন এই পদ্মবিল।
শরিফ শাহরিয়ারের মতো প্রতিদিনই পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অনেকে বিল দেখতে আসছেন। আসছেন বিভিন্ন ব্লগারও। তবে শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলক বেশি থাকে।
পর্যটনের সম্ভাবনাস্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, বিলের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তা উন্নত করা এবং পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের সুব্যবস্থা করা গেলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। এতে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, চাটমোহরের ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামজুড়ে ডিকশির বিলটি পাবনার অন্যতম প্রধান বিলাঞ্চল। শুকনো মৌসুমে বিলপাড়ের মানুষ ফসল আবাদ করেন এবং বর্ষায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্ষায় বিলে নৌকা ভ্রমণও বেশ আনন্দের।
কয়েকজন পরিবেশবাদী জানান, বছরে প্রায় চার মাস ডিকশির বিলে পানি থাকে। এ সময় বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের কার্যকর উদ্যোগ ও জোরালো নজরদারি।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)