শুক্রবার রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারে শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরের সংস্কারকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর সম্ভবত প্রথমবার তিনি মন্দিরটিতে এসেছেন। তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। জনগণ যে উদ্দেশ্যে তাকে নির্বাচিত করেছেন, তা বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্দির সংস্কারে দ্রুত বরাদ্দের আশানরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরের সংস্কার প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, মন্দিরটিতে বেশ কিছু সংস্কারকাজ প্রয়োজন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পূজার আগে এলাকার মন্দিরগুলোর জন্য সরকারের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে অনেক মন্দির রয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সরকারের কাছে বিশেষভাবে চিঠিও দিয়েছেন। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা মোকাবিলার আহ্বানঅতীতে পূজার আগে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরির প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বসবাস করে আসছেন। তাদের মধ্যে কখনো কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। অতীতে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এ বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করছেন। এই জাতীয়তাবাদের অর্থ হলো দেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবেন। হিন্দু-মুসলিম সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিয়ে তাদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গেমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে একটি গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি গৌরবের জায়গা। বাংলাদেশের উৎপত্তির কথা বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। দায়িত্ব সফলভাবে পালনে সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি।
এলাকার বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন রিগ, গুরুত্ব সৌরবিদ্যুতেগ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশের কেউ দায়ী নয়। গত ১৭ বছর আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করা হয়েছে। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসসম্পদ উত্তোলনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, কয়েক দিন আগে দুটি রিগ সচল করা হয়েছে। আরও দুটি নতুন রিগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব রিগ বঙ্গোপসাগরে গিয়ে গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু করবে। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় প্রয়োজন; এটি রাতারাতি সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে দেশের শতভাগ জ্বালানি চাহিদা পূরণ সম্ভব না হলেও পিকিং আওয়ারে অতিরিক্ত চাহিদার সময় এটি ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে লোডশেডিংয়ের সমস্যা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের ভোগান্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর মতো তিনিও দুঃখ প্রকাশ করেন। দ্রুততম সময়ে সংকট নিরসন করে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য সবার সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন ইশরাক হোসেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক