বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী।
‘শরিয়াহর পক্ষে ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ’মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, সংসদে বিতর্কিত বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দল শরিয়াহর পক্ষে ভূমিকা রাখায় তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে সরকারি দলে আলেম ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শরিয়াহবিরোধী এমন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকারের আসনের ওপরে ‘কালিমায়ে তায়্যিবা’ স্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একদিকে সংসদে কালিমা শোভা পাচ্ছে, অন্যদিকে সেই কালিমার আদর্শের বিরুদ্ধে আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এটি চরম সাংঘর্ষিক। প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা আলেমদের কাছে দোয়ার জন্য গেলেও শরিয়াহর বিধান শেখার জন্য যান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিল প্রত্যাহারের দাবিকোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না—রাষ্ট্রপতির দেওয়া আশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হেফাজতের এই নেতা বলেন, আশ্বাসের পরও ইসলামি বিধানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের শরিয়াহবিরোধী উদ্যোগের বিরুদ্ধে ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরাম অতীতেও রক্ত দিয়েছেন, রাজপথে আন্দোলন করেছেন। এবারও কোরআনের আইনের বিরুদ্ধে আসা যেকোনো বাধা প্রতিহত করা হবে। অতীতেও দুঃশাসনের সময় এ ধরনের উদ্যোগ রুখে দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত শাসকশ্রেণীকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল।
‘হেবা করতে হলে শরিয়াহসম্মত নিয়মে’সম্পদ হেবা বা দান প্রসঙ্গে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, মানবতার দোহাই দিয়ে বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের সম্পদ হেবা করে দেওয়ার নতুন নিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। যার সম্পদ, তিনি তা নিজের কাছেই রাখবেন। হেবা করতে হলে শরিয়াহসম্মত প্রকৃত নিয়মেই করতে হবে।
অনুষ্ঠান থেকে তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতি পাস হওয়া বিলে স্বাক্ষর না করার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি বিলে স্বাক্ষর করেন, তাহলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বর্তমান সরকারকে ইসলামবান্ধব উল্লেখ করে হেফাজতের এই নেতা বলেন, যে সরকার সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার পক্ষে, তাদের কাছ থেকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রত্যাশিত নয়। তাই এ-সংক্রান্ত বিলটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স