‘সহস্র বছরের দূরত্ব’ শিরোনামের কবিতায় কবি লিখেছেন, প্রিয়জনকে শেষ দেখার পর সময় যতই গড়াক, তাঁর কাছে মনে হয় যেন কেটে গেছে সহস্র বছর। ক্যালেন্ডারে সময় এগিয়ে গেলেও হৃদয় আটকে আছে সেই বিদায়ের মুহূর্তে।
প্রিয় মানুষের স্পর্শ ও ঘ্রাণ না পাওয়ার বেদনা কবিতাটিতে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। কবির ভাষায়, তাঁর আঙুলগুলো আজও প্রিয়জনের হাতের স্পর্শ খুঁজে ফেরে। দীর্ঘ বিচ্ছেদে শারীরিক দূরত্ব তৈরি হলেও স্মৃতি ও অনুভূতিতে প্রিয় মানুষটি থেকে যান প্রতিনিয়ত।
কবিতায় আরও বলা হয়েছে, হয়তো বাস্তবে আর দেখা হবে না, তবুও প্রতিদিন সেই মানুষটিকেই খুঁজে ফেরেন কবি। সময়ের হিসাবে এটি সহস্র বছর নয়, বরং যেন একটি অনন্তকাল। প্রিয়জনকে স্পর্শ করতে না পারলেও স্বপ্ন, চিন্তা ও কল্পনার জগতে তাঁকে সবসময় নিজের সঙ্গে বহন করেন কবি।
বিচ্ছেদের এই দীর্ঘ সময়ে ভালোবাসার অনুভূতিও ফুরিয়ে যায়নি। বরং তা জমে আছে বৃষ্টিহীন মেঘের মতো। সময়ের কাছে পরাজয় স্বীকার করলেও ভালোবাসার কাছে কোনো পরাজয় নেই—সহস্র বছর পেরিয়ে গেলেও সেই অনুভূতি একই রকম অটুট থাকে।
‘সহস্র বছরের দূরত্ব’ মূলত বিচ্ছেদ, অপেক্ষা, স্মৃতি ও অমলিন ভালোবাসার এক আবেগঘন প্রকাশ। প্রিয় মানুষের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রচিত কবিতাটিতে সময়ের দীর্ঘতা ও ভালোবাসার স্থায়িত্বকে পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক: ইশরাত হাসান
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, সাহিত্য বিভাগ; প্রকাশিত ৩ অক্টোবর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক