ট্যাটু আঁকা নিষিদ্ধ
শরীরে স্থায়ীভাবে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা ইসলামে জায়েজ নয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্কি অঙ্কন করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪০৮)
অন্য এক হাদিসে আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্কি অঙ্কনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণীর ওপর অভিসম্পাত করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৪৭)
এ কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে ট্যাটু করানো হারাম ও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
ট্যাটু থাকলে অজু-গোসলের বিধান
সাধারণ স্থায়ী ট্যাটু করার সময় ত্বকের ভেতরে রং প্রবেশ করানো হয়। ফলে ত্বকের ওপর আলাদা কোনো স্তর বা আবরণ তৈরি হয় না। এ ধরনের ট্যাটু থাকলে পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয় না। তাই শুধু ট্যাটুর রং ত্বকের ভেতরে থাকার কারণে অজু বা গোসল নষ্ট হবে না।
অর্থাৎ, শরীরে ট্যাটু থাকলেও অজুর সময় পানি ত্বকে পৌঁছালে অজু শুদ্ধ হবে। একইভাবে ফরজ গোসলের ক্ষেত্রেও পানি ত্বকে পৌঁছানো নিশ্চিত হলে গোসল সহিহ হবে। আর অজু-গোসল শুদ্ধ হলে নামাজও আদায় করা যাবে।
তবে ট্যাটুর ওপর এমন কোনো আবরণ, রং, কেমিক্যাল বা পদার্থ থাকলে, যা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তা অজু বা গোসলের আগে অপসারণ করতে হবে।
পুরোনো ট্যাটু থাকলে কী করবেন
কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে তা অপসারণের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। ট্যাটু অপসারণ করতে গিয়ে শরীরের উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আলেমের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ট্যাটু করানোর জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করা জরুরি।
এ ক্ষেত্রে ট্যাটু করানোর গুনাহ এবং অজু-গোসল শুদ্ধ হওয়ার বিষয় দুটি আলাদা। ট্যাটু করানো নিষিদ্ধ হলেও ত্বকের ভেতরে থাকা রং নিজে অজু-গোসলের পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হলে অজু-গোসল সহিহ হবে।
সৃষ্টির আকৃতি পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্কতা
শরীরে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন আনার বিষয়ে হাদিসেও সতর্ক করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) চিত্র অঙ্কনকারীদের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬৬২)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে।’ (সুরা আত-তিন, আয়াত: ৪)
আর সুরা নিসার ১১৯ নম্বর আয়াতে শয়তানের বক্তব্য হিসেবে আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করেছেন—মানুষকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার কথা।
সারকথা
ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা থেকে মুসলমানদের বিরত থাকা উচিত। তবে কারও শরীরে আগে থেকেই ট্যাটু থাকলে শুধু ট্যাটু থাকার কারণে অজু, গোসল বা নামাজ বাতিল হয়ে যাবে—এমন নয়। ট্যাটু যদি ত্বকের ভেতরে থাকে এবং ত্বকের ওপর পানি পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার মতো কোনো আবরণ না থাকে, তাহলে অজু ও গোসল শুদ্ধ হবে এবং নামাজও আদায় করা যাবে।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৪০৮ ও ৫৩৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৬৬২; পবিত্র কোরআন—সুরা আত-তিন, আয়াত ৪ এবং সুরা নিসা, আয়াত ১১৯।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক