বুধবার সকালে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পান্নুর মৃত্যু হয়।
নিহত পান্নু চরকান্দিপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, কলাবাড়িয়া ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সোহেল মেম্বার ও আবেদ আলী শেখের পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আবেদ আলী শেখ পক্ষের ছোড়া গুলিতে সোহেল মেম্বারের পক্ষের সমর্থক পান্নু ও তার ভাই রাসেলসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে পান্নুর মৃত্যু হয়।
অবস্থার অবনতি হলে রাসেল শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
এদিকে পান্নুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে প্রতিপক্ষ আবেদ আলী শেখের পক্ষের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নড়াগাতী থানার ওসি মো. হোসেন আলী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক