বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ দুপুর
  • ৩৪০৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

বহরে যুক্ত হবে ১১ নতুন উড়োজাহাজ

বোয়িংয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর আগে চলতি বছর বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ফলে নতুন চুক্তিসহ বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৫টিতে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

জাতিসংঘ সফরের কর্মসূচি

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা সেখানে তুলে ধরা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের কথাও জানান তিনি। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

‘আলোচনার পথ বন্ধ করা যায় না’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়—দুই পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বোয়িংয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও বিডিনিউজ২৪।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad