বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আদাবর থানায় মামলাটি করা হয়। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল লতিফ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ফয়সাল একজন পেশাদার প্রতারক। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে ভুয়া টেন্ডার ও যৌথ ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া বাকিতে মালামাল কিনেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ফয়সাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসাধারী। এনসিবি আবুধাবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। অপরাধলব্ধ অর্থ অবৈধভাবে পাচার করে দুবাইয়ে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবেও অর্থ স্থানান্তরমামলার নথিতে বলা হয়েছে, জালিয়াতির অর্থ গোপন করতে ফয়সালের স্ত্রী শাহেদার নামে এনআরবিসি ব্যাংকের সেনপাড়া শাখার হিসাবে একাধিকবার অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পরে গত বছরের ৪ নভেম্বর ওই হিসাবে ৬২ লাখ টাকা নগদ জমা দিয়ে এফডিআর করা হয়।
সিআইডির অনুসন্ধানে জালিয়াতি ও অর্থপাচারের তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত ফয়সালের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৫৩টি হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।
সিআইডির অনুসন্ধান অনুযায়ী, অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন ও বৈধ করার উদ্দেশ্যে আসামিরা বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক জালিয়াতিপূর্ণ হিসাব ব্যবহার করেছেন।
হাদি হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালগত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় করা হত্যা মামলায় ফয়সালকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
হত্যা মামলার তদন্তে ফয়সাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও উঠে আসে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিআইডি জানিয়েছিল, ফয়সাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গত ৮ মার্চ বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তাঁরা দুজনই ভারতে কারাগারে রয়েছেন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক