জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান, রোহিঙ্গা সংকটে ৫ প্রস্তাব

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ দুপুর
  • ১১২৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় (নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা) তাঁর এ ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষায় দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।

বুধবার নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

রোহিঙ্গা সংকটে ৫ প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ, দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু দীর্ঘায়িত বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মূল কারণ সমাধানের দিকে যেতে হবে। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে গাম্বিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূতসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ ওআইসি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আরও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

স্বাস্থ্য ও কৃষিতে গুরুত্ব

মাহদী আমিন জানান, দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়। এতে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা ও অর্থায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস); জাতিসংঘ; টিবিএস; ইউএনবি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad