সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার সকালে নিয়ামত উল্ল্যাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। আদেশে ‘সরকারি জনস্বার্থে’ তাকে বদলির কথা বলা হয়েছে। প্রথম আদেশে তাকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার আদেশ হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগ নিয়ে যা জানা গেলকী কারণে নিয়ামত উল্ল্যাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে জানিয়েছেন ইউএনও আফিয়া আমিন। তার ভাষ্য, এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ামত উল্ল্যার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, তিনি এ বিষয়ে নিয়ামতের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিয়ামতের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে থাকাকালে তিনি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় তার কর্ম এলাকায় বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হন।
এ ছাড়া টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সফরের সময় তাকে খাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও নিয়ামত উল্ল্যা ইউএনওকে জানিয়েছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ছদ্মনামে ব্লগে লেখালেখি নিয়েও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চাকরিজীবনের তথ্যজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০২৪ সালের ১ মে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং ২০২৬ সালের ১ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগ দেন।
সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর উপজেলা এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করা হলো।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, গৌরীপুরের এসিল্যান্ড মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
তবে কী ধরনের তথ্য বা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারেননি জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই জানাবে।
তথ্যসূত্র: গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন সূত্রের বক্তব্য; যুগান্তর, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স