সলঙ্গায় সড়কের কয়েক লাখ টাকার সরকারি গাছ উধাও, তদন্তের দাবি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ বিকাল
  • ১৬৮২০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় চারা বটতলা থেকে বেতুয়া সড়কের পাশের সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের পাশ থেকে কেটে নেওয়া ইউক্যালিপটাস গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ বিক্রি, অর্থ বণ্টন এবং মসজিদের উন্নয়ন তহবিলে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার শামীম আকন্দ ও আলহাজ মমতাজ প্রামাণিকের নেতৃত্বে চারা বটতলা থেকে বেতুয়া সড়কের পাশের গাছগুলো একই এলাকার গাছ ব্যবসায়ী আহম্মদ ও আমিরুলের কাছে বিক্রি করা হয়। গাছ কাটার পর বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা ধুবিল ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে খবর দেন। পরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গাছগুলো আটক করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযোগ রয়েছে, পরে গাছ বিক্রির অর্থ মসজিদের উন্নয়নকাজে ব্যয় করার কথা বলে গাছগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মসজিদ কমিটিকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক লেবু তালুকদার বলেন, “শুনেছি, চারা বটতলা বাজার থেকে বেতুয়া সড়কের অন্তত ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। ধুবিল ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের নায়েব গাছ আটকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মসজিদে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে জানতে পেরেছি, মসজিদ কমিটিকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঘটনাটি দুঃখজনক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, “চারা বটতলা থেকে বেতুয়া সড়কের পাশের গাছগুলো আমি রোপণ করেছিলাম। তবে এখন কারা গাছগুলো কেটেছে, তা জানতে পারিনি।”

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ছানোয়ার বলেন, “গাছগুলো কেটে মসজিদে দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আর কিছু কইরেন না ভাই।”

অন্যদিকে, গাছ ব্যবসায়ী আহম্মদ আলীর কাছে সরকারি গাছ কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদ কমিটির কাছ থেকে গাছ কিনেছেন। তবে মসজিদ কমিটির কোন ব্যক্তিকে গাছের মূল্য পরিশোধ করেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদের রাজমিস্ত্রিকে টাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা সমাধান করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

অভিযোগের বিষয়ে শামীম রেজা বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছেন।”

এদিকে, সড়কের পাশের গাছগুলো কার মালিকানাধীন ছিল, সেগুলো কাটার অনুমতি ছিল কি না, গাছ বিক্রির অর্থ কারা গ্রহণ করেছেন এবং মসজিদে কত টাকা জমা দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও হিসাব যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি গাছ কাটার অনুমোদন, গাছের প্রকৃত মূল্য এবং বিক্রির অর্থের হিসাব যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা উদ্‌ঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী।






কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad