অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, বিঘ্নিত হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। টানা বৃষ্টিতে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা কম থাকলেও দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) বুলেটিন এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
অন্ধ্রপ্রদেশে পাঁচজনের মৃত্যুভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে। সকাল ৮টার মধ্যে এর কেন্দ্র পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। পরে এটি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাছ ভেঙে পড়া ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো পৃথক দুর্ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনারাপল্লি, কাকীনাডা, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী এলাকায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন।
চার রাজ্যে আকস্মিক বন্যার শঙ্কাঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। বহু গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলের সূচিতেও বিঘ্ন ঘটেছে। বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশায় উপকূলীয় এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএমডি জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকা, নদী অববাহিকা ও পাহাড়সংলগ্ন জনপদে পানি দ্রুত জমে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এ আশঙ্কায় অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
প্রথম দর্পণ,ডেস্ক