সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছাড়া সারা দেশে একযোগে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, বাসে আগুন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তালিকা থাকার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, সরকারের অভ্যন্তরে থাকা একটি চক্র আওয়ামী লীগকে ‘পেছনের দরজা দিয়ে পুনর্বাসনের’ চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের বাইরে সমাবেশে কোনো পৃথক প্রমাণ বা সরকারি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরীহ নেতাকর্মীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী মত দমনে প্রশাসনের একটি অংশ অতীতের পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
তেলের দাম প্রত্যাহারের দাবিজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাসের মধ্যে তিন দফায় তেলের দাম বাড়িয়েছে। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রকে জনগণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা উচিত; ভর্তুকির অজুহাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানো ঠিক নয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন বক্তব্য তিনি আগেও দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতেও তিনি লিটারপ্রতি ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, গণশুনানি ও জাতীয় সংসদে আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কৃষি খাতে চাপ বাড়বে।
তিনি অবিলম্বে বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি না মানলে ঢাকামুখী লংমার্চসহ রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।
তথ্যসূত্র: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকার বিজয়নগরে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য; জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বিবৃতি সম্পর্কে কালবেলা ও আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স