গ্যাস বিল বকেয়া ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর পিজিসিএল কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ বিকাল
  • ৪৫৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সিরাজগঞ্জে প্রায় ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় এম এ মতিন কটন মিলসের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল)। সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পিজিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বকেয়া পরিশোধের জন্য নগদায়নযোগ্য চেক দেওয়ার পর গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল বিসিক শিল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এম এ মতিন কটন মিলের বিপুল পরিমাণ গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় সোমবার সকালে পিজিসিএলের ভিজিল্যান্স বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কারখানায় গিয়ে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এর পরপরই মিলের শত শত শ্রমিক বাইরে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা পিজিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ, পিজিসিএল কর্মকর্তা ও পুলিশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হয়।

পিজিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ভিজিল্যান্স) মো. আমিনুর রহমান খান বলেন, এম এ মতিন কটন মিলের ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্নের অনুমোদন নিয়েই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্ব অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিনি বলেন, পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সদর থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা হয়। সমঝোতার ভিত্তিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ একটি নগদায়নযোগ্য চেক দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ চালু রেখে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কারখানার ব্যবস্থাপক (স্টোর) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এম এ মতিন কটন মিল একটি স্পিনিং মিল। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে এখানে সুতা উৎপাদন করা হয়। গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কারখানার যন্ত্রপাতি চালানো হয়।

তিনি বলেন, চলমান সংকটের কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। এ কারণে দুই-তিনটি গ্যাস বিল বকেয়া রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের গ্যাসের জামানতের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।

এক শ্রমিক বলেন, হঠাৎ করে গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসেন। এতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। পরে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আলোচনা শেষে গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: কালবেলা অনলাইন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad